22 C
Guwahati
Sunday, December 5, 2021
More

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে স্কুল-কলেজ, সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি এআইডিএসও-র

    শিলচর, ২০ আগস্টঃ করোনা সংক্রমণের বৃদ্ধির হার গোটা দেশে ও রাজ্যে উর্দ্ধগামী থাকার সময়েও আসাম সরকার পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এআইডিএসও’র  কাছাড় জেলা কমিটি । কমিটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় জানানো হয়, সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের জীবন বিপন্নকারী কোনো সিদ্ধান্ত আসাম সরকারের একতরফা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। এআইডিএসও’র কাছাড় জেলা কমিটি মনে করে, রাজ্য সরকারের উচিত এখন জনগণের জীবন রক্ষা করা। তাদের অভিযোগ, কাছাড় জেলাতে প্রতিদিন উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে । এই অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ছাত্র ছাত্রীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে না ।  সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক হেমন্ত পেগু এ ব্যাপারে বলেন,  ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৬৫০০০ ও আসামে প্রায়  ৩০০০ মানুষ প্রতিদিন নতুন করে  সংক্রমিত হচ্ছেন । উদ্বেগের বিষয় যে দেশে প্রতি দুই মিনিটের কম সময়ে একজন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ লকডাউনের ফলে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে যদিও প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে কিন্তু জীবনের চেয়ে বড় কিছুই হতে পারে না । তিনি এও বলেন,  ১৯১৯-১৯২০ সালের  স্পেনিশ ফ্লু পরবর্তীতে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ১৯৫০ সালের এশিয়ান ফ্লু এর সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছিল । আমেরিকাতে করোনা সংক্রমণ চলাকালে সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার পর ৯৭০০০ ছাত্র ছাত্রী আক্রান্ত হয় এবং অনেকের মৃত্যুও হয় । একই ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ও ইজরায়েলে ঘটার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। আসামের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে উঠেনি । হোস্টেল, ক্যান্টিন এবং ক্লাসরুমগুলোতে যেখানে প্রচুর ছাত্র ছাত্রীরা একত্রিত হয় সেখানে সংক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা প্রবল । বহু ছাত্র- ছাত্রী,  শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনে যাতায়াত করে তাদের সংক্রমণের সম্ভাবনা যথেষ্ট । তিনি বলেন, রাজ্যের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক কোরাইনন্টাইন করা হয়েছে, সেখানে ক্লাস চালু করা কীভাবে সম্ভব? গ্রামীণ এলাকার যেসব ছাত্র ছাত্রী শহরে থেকে পড়াশুনা করে তারা একটি ঘরে দশজনের বেশিও থাকতে বাধ্য হয়, এই অবস্থায় তাদের কেউ সংক্রমিত হলে বাকিদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে । স্কুল ছাত্ররা শারীরিক ও সামাজিক দুরত্ব মেনে চলবে তার নিশ্চয়তা কতটুকু । আসাম-এর অনুন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর পর হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী সংক্রমণের শিকার হয় তাহলে তারা উপযুক্ত চিকিৎসা পাবে কোথায়? দেশের প্রায় সবকটি অভিবাবকদের সংগঠন তাদের সন্তানদের এই পরিস্হিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাবেন না বলে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন । অনেক শিক্ষক সংগঠন ও চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু না করতে অনুরোধ করেছেন । তাই  এআইডিএসও  ছাত্র ছাত্রীদের জীবনের সুরক্ষার প্রশ্নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ছাত্র সংগঠন, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক – শিক্ষক সংগঠন, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ  ও  অভিবাবকদের মতামত, পরামর্শ নিয়ে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আসাম সরকারকে আবেদন জানিয়েছে । পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীদের জীবনের সুরক্ষার প্রয়োজনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আশা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে  সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে । 

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং