19 C
Guwahati
Thursday, December 8, 2022
More

    হাইওয়েতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, পুলিশের বেশে বন্দুকের মুখে লুণ্ঠন

    শিলচর, ২৩ ফেব্রুয়ারি : হাইওয়েতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, পুলিশের বেশে বন্দুকের মুখে লুণ্ঠন

    জাতীয় সড়কে ফের শুরু হয়েছে দুঃসাহসিক ডাকাতি। পুলিশের বেশে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে বলেরো পিকআপ ভ্যান থেকে লুটে নেওয়া হল প্রায় ২ লক্ষ টাকার ৬০০টি মুরগি। শ্রীকোনা এলাকায় এই ডাকাতির সূত্রে বেরিয়ে এসেছে আরও এক ফুলন দেবীর কাহিনী। যার নেতৃত্বে গত কিছুদিন ধরে শ্রীকোনা, শালচাপড়া, রামনগর, তোপখানা এসব এলাকায় এক দুধর্ষ ডাকাত দলের সক্রিয় হয়ে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। এবার এই ডাকাত দলের শিকার হয়েছেন ধুবড়ির বাসিন্দা মহিবুল মোল্লা নামে এক যান চালক ও তার সহকারি। তারা ধুবড়ি থেকে বোলেরো পিকআপ ভ্যানে ৬০০ টি ব্রয়লার মুরগি নিয়ে যাচ্ছিলেন ধলাইর ভাগাবাজারে। রবিবার ভোররাত তিনটে নাগাদ শ্রীকোনা রেলগেটের কাছে ডাকাত দলের খপ্পরে পড়েন তারা।

    মহিবুল মোল্লা জানিয়েছেন, রেল গেটের কাছে তিনজন লোক নিজেদের পুলিশ কর্মী পরিচয় দিয়ে তাদের গাড়ি থামাতে ইশারা করে। ওই তিনজন সাদা পোশাকে থাকলেও পুলিশ কর্মী পরিচয় দেওয়ায় তারা গাড়ি থামিয়ে দেন। গাড়ি থামানোর পর তিনজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এরপর কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি দেখিয়ে বলে, ওই গাড়িতে রয়েছেন ‘এসপি ম্যাডাম’, তাকে নথিপত্র দেখাতে হবে। এ কথায় তিনি নথিপত্র নিয়ে ওই গাড়ির কাছে যান। গিয়ে দেখেন সাদা পোশাকে বসা এক মহিলা। তাঁকে নথিপত্র দেখালেও, তিনি তা না মেনে তাদের থানায় যেতে বলেন। তখন   তিন সাগরেদ মহিলার সঙ্গে গাড়িতে উঠে তাদের নির্দেশ দেয় পিছুপিছু মুরগীবাহী ভ্যান নিয়ে আসতে। তাদের কথামতো পিছু পিছু রওনা হলে কিছুটা এগিয়ে তারা পাশের একটি ফাড়ি রাস্তা দিয়ে নিয়ে যায়। ওই রাস্তায় কিছুটা ঢুকার পর দেখা যায় ৮-১০ জন লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানে। সেখানে ছিল না কোনও পুলিশ ফাঁড়ি বা থানা। ওই লোকেদের কাছে পৌঁছে ডাকাতেরা তাদের গাড়ি থামাতে বলে। এই পরিস্থিতিতে তাদের বুঝতে বাকি থাকেনি যে এরা মোটেই পুলিশকর্মী নয়, ডাকাত। সেখান থেকে চলে যাবার কথা বললে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর  কিছুটা দুরত্বে গিয়ে  সর্দার মহিলা ও এক সাগরেদ কথাবার্তা বলে অপেক্ষায় থাকা লোকদের সঙ্গে। সেসময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল দুজন। কথাবার্তা বলার পর ফিরে এসে একইভাবে ডাকাতদল ফের পিছু পিছু গাড়ি নিয়ে আসতে নির্দেশ দেয়।এবার পাশের ফাড়ি রাস্তা থেকে বেরিয়ে ফের জাতীয় সড়কে উঠে শিলচরের দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে একটি পেট্রোল পাম্প এর বিপরীত দিকে থাকা অন্য একটি ফাঁড়ি রাস্তায় নিয়ে যায় তাদের। ওই রাস্তা ধরে কিছুটা এগুলোর পর তাদের গাড়ি থামাতে বাধ্য করে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে নামিয়ে নেয় খাঁচায় থাকা পুরো ৬০০ মুরগি। মুরগি নামানোর পর সেখান থেকে যায় সর্দার মহিলার এক সাগরেদ। এবার মহিলা সহ অন্য দুজন গাড়িতে উঠে এবার তাদের নির্দেশ দেয় আগে আগে যেতে।

    চরম বিপদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এটা বুঝতে পারলেও গভীর রাতে তাদের পক্ষে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা চালালে ডাকাতরা সহজেই আরো দ্রুতগতিতে তাদের সামনে এসে গতিরোধ করে বিপদ ঘটাতে পারত। মুরগি লুটের পর ডাকাতেরা তাদের ফের শ্রীকোনা রেল গেটের কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।যাবার পথে হঠাৎ তাদের নজরে পড়ে মাছিমপুর সেনাক্যাম্পের প্রবেশপথ, সেখানে প্রহরায় রয়েছেন কয়েকজন সেনাকর্মী। বাঁচার একমাত্র আশা দেখে  সেখানে গাড়ি থামিয়ে দেন তিনি। প্রহরারত সেনা কর্মীদের কাছে সাহায্যের আর্জি জানালে এগিয়ে আসেন তারা। তাদের থামতে দেখে ডাকাতরা একবার গাড়ি থামালেও সেনাকর্মীরা এগিয়ে আসায় আর সেখানে থাকতে সাহস পায়নি। দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনা নিয়ে মহিবুল মোল্লা শ্রীকোনা পুলিশ ফাঁড়িতে এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ এর ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।

    আরো দেখুন : বিজেপিতে এসে ভোল পাল্টে এবার ঘোর কা-সমর্থক ভুবনেশ্বর কলিতা

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং