20 C
Guwahati
Thursday, January 27, 2022
More

    স্বামীর অমঙ্গলের প্রতিকার করার নামে মহিলার স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিল দুই প্রতারক

    শিলচর, ১৯ ডিসেম্বর : স্বামীর অমঙ্গল হবে। তাই এই অমঙ্গল থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করে দেবে। এভাবে দরদি সেজে এক মহিলার ২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিল দুই প্রতারক। শিলচর শহরের বুকে ঘটেছে এই ঘটনা। রাঙ্গিরখাড়ি তরণী রোডের বাসিন্দা প্রতারিত কল্যাণী দে সরকার এ নিয়ে থানায় দায়ের করেছেন এজাহার।
    তিনি জানিয়েছেন, গত শুক্রবার দুপুরে উধারবন্দে যাওয়ার জন্য তিনি রাঙ্গিরখাড়ি থেকে অটোয় উঠেন। মেট্রো বাজার (পুরাতন দেবদূত সিনেমা হল) মোড়ে অটো থেকে নামার পর দুজন লোক এগিয়ে আসে তাঁর কাছে। এর মধ্যে একজন কালো বেটে মতো স্বাস্থ্যবান, অন্যজনও বেটে তবে গায়ে-গতরে কিছুটা ক্ষীণ। তারা তাঁকে বলে, তাঁর পরিবারে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে সহ স্বামী রয়েছেন, এই তথ্য কি ঠিক। এরপর বলে, স্বামীর জীবনে ঘোর অমঙ্গল ঘনিয়ে আসছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ে যথাযথ বিবরণ দেওয়ায় স্বামীর অমঙ্গলের কথা শুনে তিনি বিশ্বাস করে ফেলেন। লোক দুজন তাঁকে জানায়, তাঁরা স্বামীর অমঙ্গলের প্রতিকারের রাস্তা বাতলে দিতে পারেন। এদের অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন দৈব পুরুষ ভেবে তিনি বিমোহিত হয়ে যান। তখন ওই দুজন লোক তাকে বলে প্রতিকারের জন্য মন্ত্র পড়া আবশ্যক। জনবহুল রাস্তায় তা সম্ভব নয়। এ কথা বলে তাকে নিয়ে যায় পাশে সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্জন গলিতে। গলির মাঝামাঝি গিয়ে তারা দুটি নোট বের করে দিতে বলে। এ কথায় তিনি তাদের হাতে একটি ১০ টাকা এবং একটি ২০ টাকার নোট তুলে দেন। নোট দুটি হাতে নেওয়ার পর, তারা বলে তাঁর (কল্যাণীর) হাতের আঙ্গুলে থাকা আংটি গুলো এবং গলায় থাকা সোনার চেন খুলে দিতে। এসব মন্ত্রপূতঃ করে দেবে তারা, এতে দূর হয়ে যাবে তার স্বামীর অমঙ্গল।

    কল্যাণী দে সরকারের কথায়, লোক দুজনের কথাবার্তার ধরন এবং স্বামীর অমঙ্গলের কথা শুনে তাঁর যেন কোনও হুঁশ ছিল না। পুতুলের মতো তারা যেভাবে বলতে থাকে সেভাবেই কাজ করতে থাকেন তিনি। তাঁর হাতের আঙ্গুলে থাকা ৩টি সোনার আংটি ১টি গোমেদ বসানো আংটি, ১টি প্রবাল বসানো আংটি এবং গলার সোনার চেন খুলে দিয়ে দেন তাদের হাতে।একটি রুমালে বেঁধে ২টি নোটসহ এসব অলংকার তুলে দেন তাদের হাতে। এরপর মোটাসোটা লোকটি পোটলাটি কিছুক্ষণ মন্ত্র পড়ার পর তাঁর ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়ে তাঁকে চলে যেতে বলে। তাদের কথামতো তিনি গলি থেকে বেরিয়ে উদারবন্দে যাওয়ার জন্য হেঁটে হেঁটে সদরঘাটে যান। সেখানে অন্য একটি অটোয় চড়ে রওনা হন উধারবন্দের উদ্দেশ্যে। এ পর্যন্ত তাঁর মনে অন্য কোনও ভাবনাই আসেনি। বিমোহিত হয়ে লোক দুজনকে অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন দৈব পুরুষ দেবে মগ্ন হয়েছিলেন। কিন্তু অটো সদরঘাট সেতু পার হয়ে কিছুটা এগোতেই তাঁর প্রচন্ড ঘাম ঝরতে থাকে। কিছুক্ষণ তীব্র ধারায় ঘাম ঝরার পর তার বোধোদয় হয়। এরপর তিনি ব্যাগে হাত দিয়ে দেখেন, ১০ ও ২০ টাকার নোট দুটি থাকলেও নেই কোনও স্বর্ণালঙ্কার। তবুও তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো ব্যাগের নিচের দিকে রয়েছে স্বর্ণালঙ্কার গুলো। কিন্তু উধারবন্দে আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছার পর ভালোভাবে ব্যাগ খুঁজে দেখেন স্বর্ণালঙ্কার সব গায়েব।এবার তিনি বুঝতে পারেন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন পুরুষ নয়, পড়েছিলেন প্রতারকদের খপ্পরে। এরাই কারসাজি করে ব্যাগে ঢুকানোর সময় হাতিয়ে নেয় তাঁর স্বর্ণালঙ্কার গুলো।
    তিনি জানিয়েছেন, প্রতারকরা হাতিয়ে নেওয়া তাঁর স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা। তাঁর এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের সূত্র জানান, অনুমান করা হচ্ছে, প্রতারকরা আগে থেকেই কল্যাণী দে সরকার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে রেখেছিল। বর্তমানে এদের খোঁজ চলছে।

    আরো দেখুন : ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শিলচর-গুয়াহাটি ফাস্ট প্যাসেঞ্জার

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং