19 C
Guwahati
Thursday, December 8, 2022
More

    সরকারের পাপ মোচনে মন্দির-মোকামে মোমবাতি জ্বালাবে কাগজকল ইউনিয়ন

    শিলচর, ৩০ জানুয়ারি : এবার শোক মিছিল বের করতে ধর্মের আশ্রয় নিল এইচপিসি জয়েন্ট একশন কমিটি অব রিকগনাইজ ইউনিয়নস ও এইচপিসি রিভাইব্যাল অ্যকশন কমিটি। গত ২৫ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক সন্ধ্যায় বেতনহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা কাছাড় ও নগাও কাগজকলের ৮০ জন কর্মীর আত্মার সদগতি কামনায় শিলচর ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশ থেকে মোমবাতি মিছিল বের করতে গিয়েছিল সংগঠন দুটো। কিন্তু অনুমতি নেই বলে পুলিশ আটকে দেয় মিছিল। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মিছিলের অনুমতি দিয়েও রাজনৈতিক চাপে শেষ মুহূর্তে ডিগবাজি খেয়ে তা প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন। সেদিন ব্যর্থ হওয়ার পর সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা ফের আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি শোক মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার প্রশাসনিক বাধা এড়াতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, শোক মিছিল হবে ধর্মীয়। এই ধর্মীয় শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গান্ধীবাগ থেকে যাত্রা শুরু করে শশানঘাটে গিয়ে শ্মশান কালী মন্দিরে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিদেহী কর্মীদের আত্মার সদগতি কামনা করবেন। শ্মশানকালী মন্দিরের পর একইভাবে পঞ্চায়েত রোডে ফজল-শা- মোকামে গিয়েও প্রজ্বলন করবেন মোমবাতি।
    এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সংগঠনগুলোর কর্মকর্তা মানবেন্দ্র চক্রবর্তী, বাহারুল ইসলাম বড়ভূঁইয়া, উৎপল দত্ত এবং নবেন্দু দে-রা একথা জানিয়ে বলেন, এবার আর তারা অনুমতি নেওয়ার পথে যাবেন না। কারণ ভারতে কারো ধর্মচারণে বাধা দেওয়াটা রীতিবিরুদ্ধ। এরপরও যদি তাদের বাধা দেওয়া হয়, তবে ধরে নিতে হবে বর্তমান সরকারের জমানায় তাদের ধর্মচারনেরও স্বাধীনতা নেই।

    মানবেন্দ্রবাবুরা আরও জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অমাবস্যা তিথিতে “ধর্মীয় শোক মিছিল” আয়োজনের আগে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে উপত্যকার শাসকদলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাড়ির সামনে কাগজ কল ইস্যুতে পর্যায়ক্রমে শুরু করবেন অবস্থান ধর্মঘট। তবে কোনদিন, কখন, কোন জনপ্রতিনিধির বাড়ির সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসবেন একথা খোলসা করেননি তারা। তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসা হবে অবস্থান ধর্মঘটে।  তাদের কথায়, কাগজকল নিয়ে বরাকের শাসকদলের জনপ্রতিনিধিরা রহস্যজনকভাবে নীরব। অথচ কাগজকল চালু হলে সরাসরি কর্মসংস্থান হবে প্রায় ২ লক্ষ লোকের। আর উপত্যকায় পঞ্জীয়নকৃত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ। কাগজকল চালু হলে যেখানে উপত্যকার বেকার সমস্যার ক্ষেত্রে বিরাট ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা থেকে সন্দেহ হচ্ছে এক্ষেত্রে নয়ছয় হওয়া ৪১৪১ কোটি টাকার বখরা পেয়েছেন তারাও। অন্যথায় এরা উপত্যকার স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কেন ব্যস্ত থাকবেন দিল্লি-দিসপুরের কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনে।

    ধর্মীয় শোকমিছিল প্রসঙ্গে মানবেন্দ্রবাবুরা জানান, বেতনহীন অবস্থায় অনাহারে-অর্ধাহারে এবং বিনা চিকিৎসায় মৃত ৮০ জন কাগজকল কর্মীর মধ্যে ৬৮ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, অন্য ১২ জন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তাই তাদের আত্মার সদগতি কামনায় শ্মশান কালী মন্দির এবং ফজল-শা-মোকামে মোমবাতি প্রজ্বলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৃত কর্মীদের আত্মার সদগতি কামনার সঙ্গে সঙ্গে সরকার এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনযন্ত্র কাগজ কালকে ঘিরে যেসব “পাপ” করে চলেছে, সেসব “পাপ মোচনের” জন্যও প্রার্থনা জানানো হবে মন্দির এবং মোকামে। তারা ১১ ফেব্রুয়ারি ধর্মীয় শোক মিছিলের দিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৭টার মধ্যে নিজেদের বাড়িতে মোমবাতি জ্বালানোর জন্য আবেদন জানিয়েছেন বরাকবাসীর প্রতি। ওই দিনের কার্যসূচি ইতিমধ্যে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তারা। তবে আগাম অনুমতির জন্য নয়, প্রশাসনযন্ত্রকে জানিয়ে জানাতে হয়, তাই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত নবেন্দু দে এইচপিসি ফ্যামিলি এন্ড সিনিয়র সিটিজেন ফোরামেরও কর্মকর্তা। তিনি জানান, কাগজ কলের যেসব কর্মী হাউসিং লোন নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছেন, বেতন বন্ধ থাকায় মাসিক কিস্তি জমা না পড়ার দরুন তাদের অনেকের বর্তমানে বেঘর হওয়ার উপক্রম ঘটেছে। ব্যাংক বাড়ি “সিজ” করার তোড়জোড় শুরু করেছে। নবেন্দুবাবু জানান, তিনি নিজেও এমন পরিস্থিতির শিকার। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রয়োজনে পরিবারের লোকেদের সবার রক্ত বিক্রি করে পরিশোধ করবেন ব্যাংকের দেনা। নবেন্দুবাবুর বক্তব্যের সূত্র ধরে মানবেন্দ্রবাবু বলেন, সরকার কর্পোরেট সেক্টরের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুব করে দিচ্ছে। কিন্তু বেতনহীন কাগজকল কর্মীদের বেলা সম্পূর্ণ উদাসীন। এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সরকারের মানসিকতা। 

    আরো দেখুন : ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শিলচরে হজ প্রশিক্ষণ শিবির

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং