15 C
Guwahati
Tuesday, January 25, 2022
More

    সরকারি সিদ্ধান্ত নেই, বরাদ্দ হয়নি অর্থও, তবু করিমগঞ্জে মেডিক্যালের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

    ‘মূল নাই ঘর, পূবেদি দোয়ার!’

    একবার দু’বার নয়, পরপর চারবার! বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে অসমের অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের কথা বলেছেন। কখনও বলেছেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কেবল জমি দেখা বাকি। কখনও বা বলেছেন, জমি দেখার কাজ চলছে। তবে কোনও বাজেটেই করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেননি তিনি। অথচ রাজ্যের অন্যান্য কয়েকটি স্থানে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি ঘোষণা হয়ে গেছে। অর্থও বরাদ্দ হয়েছে। চলছে কাজ। কিন্তু করিমগঞ্জের অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি।

    এরপর থেকেই করিমগঞ্জে মানুষের মাঝে এক চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দেপুরকায়স্থ মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। ফলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। এ খবর হিমন্তবিশ্ব শর্মার কানে পৌঁছেছে। ফলে এবার করিমগঞ্জ জেলার রামকৃষ্ণনগরে এসে তিনি বলেন, করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে তাঁর মন্ত্রকের কোনও টালবাহানা নেই। সিদ্ধান্ত একেবারে পাকা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে জমি নিয়ে। পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল ও রাতাবাড়ির বিধায়ক বিজয় মালাকারের মধ্যে এনিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। অথচ দু’জনেই তাঁর অপরিহার্য সৈনিক। ফলে তিনি এখন শ্যাম রাখি না কুল রাখি এই উভয়সংকটে পড়েছেন। এই দুই বিধায়ক মিলে জমির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে গেলে দশদিনের মধ্যেই মেডিক্যাল কলেজের মঞ্জুরি তিনি দিয়ে দেবেন।

    কিন্তু বাজেটে অর্থের কোনও ব্যবস্থা না থাকলে কোথা থেকে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মত এক বৃহৎ বিষয়ের অর্থ আসবে? কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, ‘অসমে কংগ্রেস সরকার পনেরো বছরেও করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কারণ, তাঁদের সেই ইচ্ছেটাই ছিল না। কিন্তু বিজেপি-র এই সরকার একেবারেই ভিন্ন। এখন তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর যেমন বলা তেমনিই কাজ। আর এখানে অর্থ কোনও সমস্যাই নয়। মাননীয় অর্থমন্ত্রী যখন বলেই দিয়েছেন, তাহলে অর্থের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

    কাজেই এরপর থেকেই প্রবল উৎসাহে জমি সন্ধানে লেগে গেছেন কৃষ্ণেন্দু-বিজয়। পাথারকান্দির বিধায়ক এদিন বলেন যে, দোহালিয়া অঞ্চলে মেডিক্যাল কলেজের জন্য উপযুক্ত জমি দেখার কাজ শেষ। এবার কেবল স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অনুমোদন পেলেই হয়ে যায়। এদিকে রামকৃষ্ণনগর থেকেও ওখানে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবি উঠছে। একদল স্থানীয়রা বলেছেন, রামকৃষ্ণনগরে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করতে হবে, নাহলে আগামী ভোটে এর প্রভাব টের পাবে বিজেপি। আবার করিমগঞ্জ জেলায় মেডিক্যাল কলেজ করতে গেলে সেটা হোক শহর সংলগ্ন এলাকায়। এ দাবি তো উঠছেই। আর সম্ভবত এমন কথা অনেকটাই যুক্তিসঙ্গত।

    শিলচর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপকুমার দে বলেন, একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির সময় খোঁজ করা হয় পাশ্ববর্তী একটি হাসপাতালের। সেটি সাধারণতঃ জেলা সদরের সিভিল হাসপাতালই হয়ে থাকে। যেমন শিলচর মেডিক্যালের ক্ষেত্রে ছিল সতীন্দ্রমোহন দেব সিভিল হাসপাতাল। কারণ, মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়াদের প্রাথমিক দিনগুলিতে বেশ কিছু কাজকর্ম সিভিল হাসপাতালের মত স্থানেই করতে হয়। ফলেই করিমগঞ্জের সিভিল হাসপাতাল থেকে অনেকটা দূরে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করতে হলে আগে সেখানে একটি হাসপাতাল চালু করতে হবে। কিন্তু এটি যথেষ্ঠ সময়সাপেক্ষ বিষয়। তেমনভাবে করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ বানাতে গেলে অন্তত চার-পাঁচ বছর সময়ের প্রয়োজন।

    করিমগঞ্জ কলেজের অধ্যাপক নির্মলকুমার সরকারের আশঙ্কা, মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাহীন এক গ্রামীণ অঞ্চলে গিয়ে চিকিৎসা প্রদানে রাজি হবেন না। সকলেই অন্তত জেলা সদরের মত স্থানে থাকতে চাইবেন। কিন্তু এখান থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার পথ উজিয়ে চিকিৎসা ও শিক্ষাদান এই দুই বিষয় চালিয়ে নিতে সমস্যা হতে পারে চিকিৎসকদের। কারণ, একটি মেডিক্যাল কলেজে কেবল পাঠদান হয় না। সঙ্গে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের বিষয়টিও থাকে। তার উপর এখনও পাথারকান্দির মত অঞ্চলে সড়কের যে বেহাল অবস্থা, এসব দেখে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

    এদিকে কমলাক্ষ দেপুরকায়স্থ বলেন, ‘রাজ্য সরকারের করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের কোনও অভিপ্রায়ই নেই। সেটা থাকলে সরকারি রীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। এভাবে জমি নিয়ে ইচ্ছেকৃত জট তৈরি করার প্রচেষ্টা হত না। অথচ জমি কোনও সমস্যাই নয়। করিমগঞ্জ শহরের দশ কিলোমিটার ব্যসার্ধের মধ্যেই পর্যাপ্ত জমি রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য। সরকারি সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে সামান্য দিনেই সেখানে জমি ঠিক করে দেওয়া যাবে।’

    অর্থাৎ নিটফল কী দাঁড়াল? সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি, অর্থ বরাদ্দও নেই। কিন্তু মেডিক্যালের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে করিমগঞ্জে। আর সেই লড়াইয়ে অবশেষে না এমনভাবেই ঝুলে থাকে করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি, শঙ্কা সেটাই।তাই তো প্রতিবেদনের সূচনার আপ্তবাক্যটাই বোধহয় এ ক্ষেত্রে মিলে যাচ্ছে। নয় কি?

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং