28 C
Guwahati
Monday, September 26, 2022
More

    সম্পাদকীয় : করোনা আবহেই স্কুল-কলেজ খোলার প্রক্রিয়া শুরু

    পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে স্কুল-কলেজ ফের খুলছে। ইতিমধ্যে স্কুল-কলেজ পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার জন্য রাজ্যের প্রতিজন শিক্ষক-কর্মচারীর কোভিড পরীক্ষা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। কিন্তু বরাক উপত্যকা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বা বিনা চিকিৎসায় করোনা রোগীর মৃত্যু মিছিল উদ্বিগ্ন করে রেখেছে সরকার ও মানুষকে। এদিকে সান্ধ্যকালীন কার্ফুর সময়ও কমানো হয়েছে। এতে সামাজিক দুরত্ব-বিধি অনেকটাই ব্যাহত হবে। শুরু হয়ে গেছে আন্তঃজেলা যাতায়াতও। ফলে আগামী কয়েকটি মাস সংক্রমণের গতি প্রকৃতি কী হবে, সেটা অনুমান করা মুশকিল। এমন পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ ফের চালু করার সরকারি প্রয়াস নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। অসম সহ অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং গোয়া সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ গুলো নির্ধারিত সীমিত সংখ্যক পড়ুয়াদের নিয়ে সপ্তাহের কয়েকদিন ক্লাস চালাতে চাইছে। সরকার নিঃসন্দেহে ভাবনা-চিন্তা করে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু অভিভাবকরা, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়াদের অভিভাবক যারা এতদিন ধরে নিজেদের সন্তানদের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে আগলে রেখেছিলেন তারা পড়েছেন বিপাকে। স্বভাবতই তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন।

    এ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে না যে, পড়ুয়াদের অমূল্য সময় অপচয় হচ্ছে। এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে, শিক্ষা গ্রহণের মানসিক প্রবাহও এই দীর্ঘ ছেদের ফলে ব্যাহত হয়েছে। যারা খুব মনোযোগী তারা পাঠ্যপুস্তক ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখছে, পাঠক্রম মতে নিজেদের এগিয়ে নিচ্ছে। স্কুলগুলিও তাদের প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু ক্লাস না থাকায় ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা, যারা অমনযোগী এবং যাদের কাছে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর সুবিধে নেই। এদের জন্য সরকার রেডিও-টিভি সহ সামূহিক ভাবে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার লভ্য করার প্রয়োজন রয়েছে। আসলে পাঠদানে এই দীর্ঘ ছেদ ভবিষ্যতে সমাজে কী প্রভাব ফেলবে, সেটা ভাসাভাসা একটা অনুমান করা যেতে পারে মাত্র। আসলে এই মুহূর্তে সরকার ও পডুয়ারা একটি শাঁখের করাতের সামনে। বড় জটিল সময়। ফলে জটিল সমস্যার সমাধান বের করাও। কারণ, পড়ুয়াদের পড়ার মানসিকতাকে ধরে রাখা যেমন জরুরি তেমনি জরুরি তাদের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা। ইজরায়েল ও আমেরিকায় স্কুল ফের চালু করার সঙ্গে সঙ্গে এইসব দেশে পড়ুয়ারা ব্যাপকহারে সংক্রমিত হয়েছে। দিল্লির অভিভাবকদের একটি সংগঠন শিক্ষামন্ত্রীকে স্কুল এখনই চালু না করার আর্জি জানিয়েছে। রাজ্য সরকার বর্তমান করোনার-প্রকোপ বিবেচনায় রেখে নিশ্চয়ই কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে যা ভারসাম্য বজায় রাখবে, অভিভাবকদের উদ্বেগমুক্ত রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং