22 C
Guwahati
Monday, November 28, 2022
More

    মিজোরাম সীমান্তের প্রকৃত পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে বাধা পেয়ে ফিরল বিজেপি প্রতিনিধিদল

    করিমগঞ্জ, ১৮ অক্টোবরঃ করিমগঞ্জ জেলার অসম-মিজোরাম সীমান্তের চেরাগি ফরেস্ট রেঞ্জের সিংলা সংরিক্ষত বনাঞ্চলে মিজো আগ্রাসিত এলাকা পরিদর্শন করল জেলা বিজেপির এক প্রতিনিধি দল । রাতাবাড়ির বিধায়ক বিজয় মালাকার জেলা বিজেপির সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিস নাথ সহ বিজেপির  প্রতিনিধি দলটি শনিবার রাতাবাড়ির মিজো আগ্রাসিত এলাকার মিজো পুলিশের স্থাপন করা ক্যাম্পে গিয়ে উপস্থিত হয়। কিন্তু  তাঁদেরকে সেখান থেকে প্রকৃত সীমান্তে যেতে বাধা দেয় মিজোরাম পুলিশ। মিজোরামের মামিত জেলার এসপি শশাঙ্ক জয়সওয়াল ও মিজোরামের আই আর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা প্রতিনিধি দলটিকে আর এগোতে দেননি। সেখান থেকে আরও এক কিঃমি ভিতরে রয়েছে অসম মিজোরামের প্রকৃত সীমারেখা। সূত্রের খবর, প্রকৃত সীমারেখার ভিতরে এসে মিজো ছাত্র সংগঠন এমজেডপির নেতৃত্বে মিজো লোকেরা যুদ্ধ স্তরীয় তৎপরতায় ঘরবাড়ি তৈরি করছেন। তাই কেউ যাতে এসব দেখে না নেয় সে কারণে হয়তো অসমের কাউকে অসমেরই ঐ অঞ্চলে যেতে বাধা দিচ্ছে মিজো প্রশাসন।

    অনুরূপভাবে দু দিন আগে উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দেপুরকায়স্থের নেতৃত্বে কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল ও ঐ এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে মিজো পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। উল্লেখ্য, লকডাউনের সুযোগে রাতাবাড়ির সংরিক্ষত বনাঞ্চলে বেশ কয়েক কিঃমি ভিতরে এসে মিজোরা অসমের ভূমি দখল করে নিয়েছে।  এতে এক সপ্তাহ আগে করিমগঞ্জের জেলা প্রশাসন ঐ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে একটি ঘর ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি অসমের জমিতে মিজোরামের স্থাপন করা মনরেগা প্রকল্পের তথ্যফলক উপড়ে ফেলেছিল। কিন্তু ঐ উচ্ছেদ অভিযানের পরদিন থেকেই ঐ এলাকার সঙ্গে পাথারকান্দির মেদলিছড়া এলাকায় মিজোরামের আগ্রাসন আরও তীব্র হয়ে উঠে। উচ্ছেদ হওয়া জমিতে মিজোরাম আইআর ব্যাটেলিয়ন ক্যাম্প বসিয়ে পাহারা দিচ্ছে । মিজোরাম পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ে মিজো লোকেরা যুদ্ধ স্তরীয় তৎপরতায় ঘর বাড়ি তৈরি করছে। অসমের জমিতে মিজোদের পতাকা উড়ছে।

    রাতাবাড়ির বিধায়ক বিজয় মালাকার বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। করিমগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও মিজোরামের মামিত জেলা প্রশাসনের মধ্যে সীমা বিবাদ নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিষ্ফল হয়। মিজোরামের আধিকারিকরা ভারত সরকারের জরিপ করা মানচিত্র মানতে চান নি। এদিকে মিজোরামের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এমজেডপি আরও উগ্র রূপ ধারণ করেছে। মিজোরাম প্রশাসনও তাদের প্রত্যক্ষ মদত যোগাচ্ছে। ফলে মিজোরামের আগ্রাসন হতে অসমের ভূমি উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করার পর রাতাবাড়ির বিধায়ক বিজয় মালাকার জানান, মিজোরাম ও অসমের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন পাথারকান্দি সীমান্তের সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে মিজোদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বলে কাছাড় ও হাইলাকান্দি  সীমান্তে ব্যারিকেড বসিয়ে মিজোদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাবেন। কারণ মিজোরাম সরকার বিদেশি রাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।  তাই তাদের সাথে তাদের মতোই আচরণ করতে হবে। যে কোনও মূল্যে অসমের এক ইঞ্চি জমিও মিজোদের ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে বিধায়ক মালাকার সহ বিজেপির প্রতিনিধি দল দৃঢ়তার সঙ্গে জানায়। সাংসদ কৃপানাথ মালাও এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, মিজোদের ভারত সরকারের জরিপ করা মানচিত্র মতে সীমা মানতেই হবে। এ নিয়ে সাংসদ মালাহ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রীকে ও চিঠি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন। মিজো আগ্রাসন প্রতিহত করে অসমের ভূমি ফিরিয়ে আনতে বিরোধীদের পাশাপাশি স্বদলীয় সাংসদ বিধায়ক ও অসম সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং