12.5 C
Guwahati
Saturday, January 29, 2022
More

    ভোট বিধির মধ্যেই সেবার তুঘলকি ফরমান, রাজ্যে বাধ্যতামূলক হচ্ছে অসমিয়া

    শিলচর, ২১ মার্চ : ভোটের ডামাডোলের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (সেবা) কী অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার ফন্দী আঁটছে? রাজ্যে যখন আদর্শ আচরণ বিধি বলবৎ রয়েছে, তখন গত ১৭ মার্চ সেবার তরফে জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তি (SEBA/AB/AG/26/2020/4) ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোরালো হয়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বরাক উপত্যকা বঙ্গসাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। আদর্শ আচরণ বিধি চলাকালীন এরকম একটা বিজ্ঞপ্তি জারি কতটা বিধি সম্মত, সেনিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছেন তাঁরা। বঙ্গভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বরাকবঙ্গের কর্মকর্তারা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বলছে, ঘুরপথে বাঙালি বা রাজ্যের অন্য জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার সব প্রক্রিয়া-ই সেরে নিয়েছে সেবা। উপত্যকায় বলবৎ ভাষা আইনকে কাটাছেঁড়া না করেও কৌশলে অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অথচ এই উপত্যকার ভোটপ্রার্থী কিংবা কোনও রাজনৈতিক দল রা কাড়ছে না। ফলে সর্বতোভাবে ভাবে মনে হচ্ছে, এই সময়ে বরাক উপত্যকাকে অসমীয়া বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপের আওতা থেকে বাইরে রাখলেও অদূর ভবিষ্যতে উপত্যকার ছেলেমেয়েদের বাংলায় পড়াশোনার সুযোগ না-ও থাকতে পারে। 

    কী উল্লেখ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে? বরাকবঙ্গের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহক সমিতির সভাপতি নীতিশ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক গৌতমপ্রসাদ দত্ত, কাছাড় জেলা সমিতির সভাপতি তৈমুররাজা চৌধুরী, সঞ্জীব দেবলস্কররা জানাচ্ছেন, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে অসমীয়া ভাষা শিক্ষা আইন ২০২০-এর  বিধান অনুসারে রাজ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অসমীয়া পাঠ বাধ্যতামূলক করেছে সেবা। পাশাপাশি ২০২১ সালে যে সব শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে, তাদের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমে অসমীয়া বিষয়টি বাধ্যতামূলক করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। যা কার্যকর হবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে। তবে এই তালিকা থেকে ষষ্ঠ তফসিলি অঞ্চল, বরাক উপত্যকা, বিটিএডি এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বড়ো মাধ্যমের স্কুলগুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

    এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল, কিন্তু বিজ্ঞপ্তির পরবর্তী অংশে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে, সেবা অনুমোদিত স্কুলগুলিতে যেসব পড়ুয়াদের এমআইএল অসমীয়া নয়, তাদের অবশ্যই অসমীয়া বিষয়টিকে ঐচ্ছিক সাবজেক্ট হিসেবে নিতে হবে।  অন্য কথায়, এই শিক্ষার্থীরা চাইলেও অসমীয়া ব্যতীত গণিত বা অন্য কোনও  ঐচ্ছিক সাবজেক্ট নিতে পারবে না। কারণ, কেবলমাত্র একটি ইলেক্টিভ সাবজেক্টের বিধান রয়েছে বোর্ডের পাঠ্যক্রমে। গৌতম প্রসাদ দত্ত, সঞ্জীব দেবলস্কররা বলেন, এই উপত্যকা বা অন্য কোনও অঞ্চলের অ-অসমীয়া মেধাবী পড়ুয়া যারা পরবর্তীতে চিকিৎসা বিজ্ঞান কিংবা কারিগরি প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন দেখে, অসমীয়া সাবজেক্ট চাপিয়ে কী তাদের সব সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনাশ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে না? আর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কেউ যদি এমআইএল হিসেবে অসমীয়া নিয়েও নেয়, অন্য সাবজেক্ট কী সে তার মাতৃভাষায় পড়তে পারবে? এই করে কী অসমীয়াকরণের একটা চক্রান্ত শুরু হয়নি? এব্যাপারে রাজনৈতিক দল এবং ভোট প্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন  সবাই। 

    আরো দেখুন : ভোটের প্রস্তুতি দেখতে সোমবার ফের অসমে আসছে নির্বাচন কমিশন

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং