22 C
Guwahati
Thursday, January 13, 2022
More

    ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণে সরকারের আপত্তি কেন? সোচ্চার বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট

    শিলচর, ৩১ ডিসেম্বর : ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণ নিয়ে এবার সোচ্চার হলেন বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সদস্যরা। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিডিএফ এর মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বর্তমান রাজ্য সরকারকে। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপ নিলে যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবেনা সে ব্যাপারে বিডিএফ নিশ্চিত। রাজ্য সরকার এর আগে দু’দুবার কাছাড় জেলা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে স্পষ্টীকরণ চেয়েছে এবং প্রতিবারই জেলাশাসক চিঠি দিয়ে রাজ্য সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন যে এই নামকরণ করা হলে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হবার কোনও আশঙ্কা নেই। 

    বিডিএফ মনে করে, বরাকের মানুষ সর্বদাই শান্তিপ্রিয়। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একসময় বরাককে ‘শান্তির দ্বীপ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। যেখানে জেলাশাসক বারবার স্পষ্টীকরণ দিচ্ছেন সেখানে গুয়াহাটি বসে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা কিভাবে পরিস্থিতির অবনতি হবে বলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? বিডিএফ-এর মূখ্য আহ্বায়ক বলেন, যদি সত্যিই আইন শৃঙ্খলার অবনতি হবে বলে মনে হয় তাহলে তো সেটা সরকারেরই সামলানোর দায়িত্ব। যদি এই অজুহাতে একটি নায্য দাবিতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব না হয় তবে সেটা সরকারের ব্যর্থতা। সেটা সরকার জনসমক্ষে স্বীকার করুক। বিডিএফ মনে করে, এসব শুধুই চক্রান্ত। কারণ এই সরকার বাঙালি বিরোধী, বাঙালি বিদ্বেষী। তারা ভাষা শহিদদের ঘৃণা করে এবং তাই তাদের মর্যাদা দেবার ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছে না।

    প্রদীপ দত্তরায় আরও বলেন, কিছুদিন আগে সরকার বড়ো ভাষাকে রাজ্যের সরকারি সহযোগী ভাষা শহিদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।অথচ যেখানে এককোটি বাংলাভাষী রয়েছেন এই রাজ্যে, তাদের ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে অপারগ। তিনি বলেন, বড়ো ভাষাকে যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তার জন্য বিডিএফ আনন্দিত এবং এজন্য অসম সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বাংলাকে অবহেলা করা হবে ! তার বক্তব্য, ইদানীং বিধানসভার প্রশ্নোত্তরে পর্বে এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারী বলেছেন, ব্যাপারটি বড়ো চুক্তির অঙ্গীভূত, যে চুক্তি বড়োদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। বিডিএফের জিজ্ঞাস্য, তাহলে কি মন্ত্রী এই দাবির জন্য বাঙালিদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে প্ররোচনা দিচ্ছেন? এটা কি সরকারের তরফে একধরনের উস্কানি দেওয়া হচ্ছে না ? ‌সরকার জানে যে দীর্ঘদিন ধরে বড়োদের সঙ্গে বাঙালিদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে । সরকার সেটা জানে এবং তাই পরিকল্পিতভাবে এসব করে দুই জনগোষ্ঠীর সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চাইছে। তবে তিনি নিশ্চিত যে এসব করে কোনও লাভ হবেনা। সম্পর্ক আগের মতোই অটুট থাকবে।

    বিডিএফ আরও বলেছে, যেখানে অসম সাহিত্য সভার উন্নতিকল্পে দরাজ হস্তে সরকারি অনুদান দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বরাকের বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব মূলক সংগঠন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনকে সম্পূর্ণভাবে অবহেলা করা হচ্ছে।বিগত দুবছরে বরাক বঙ্গ কোনও অনুদান পায়নি অথচ বাকি সব জনগোষ্ঠীর সাহিত্য সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকার অনুদান দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারী বলেছেন, বাংলা যেহেতু উন্নত ভাষা তাই তাদের অনুদান দেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনা। প্রদীপ দত্তরায়ের বক্তব্য, তাহলে কি মন্ত্রী অসমীয়া ভাষাকে ‘দুর্বল’ ভাষা বলতে চাইছেন? তাহলে সরকার স্বীকার করুক যে অসমীয়া ভাষা -সংস্কৃতি দুর্বল।যে ভাষাতে রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক কথা বলেন তার সম্পর্কে এমন মন্তব্য  কি পুরো অসমীয়া জাতির পক্ষে অপমানজনক নয়? এইসব  সরকারের বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাবের প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবং বরাক উপত্যকার নাগরিকরা আগামী নির্বাচনে এর যোগ্য জবাব দেবেন।

    বিডিএফ সদস্যরা মনে করিয়ে দেন, বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ যখন বিধানসভায় এইসব প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন তখন বরাক থেকে নির্বাচিত শাসকদলের ১৪ জন বিধায়ক তার সমর্থনে একটি কথাও বলেননি। জনগন তাদের এই ন্যাক্কারজনক ভূমিকা সম্বন্ধে সম্পুর্ন ওয়াকিবহাল এবং এরজন্য অবশ্যই তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

    আরো দেখুন : সদনে চেঁচামেচি এবং বিতর্কিত মন্ত্যবের পর ক্ষমা চাইলেন বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মি

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং