15 C
Guwahati
Tuesday, January 26, 2021
  • হোম
  • ভিডিও
  • টাইমকাষ্ট
More

    বোকাদাদার ঝুলি – ৪

    অভিজিৎ মিত্র 

    ‘রতনে রতন চেনে আর শুয়োরে চেনে কচু’ এই প্রাচীন লোককথা মাথায় রেখে হবু গোবরদেশে অনেক খুঁজেপেতে এবার যাকে লেখাপড়া মন্ত্রী করেছে, সে এক আশ্চর্য লোক। তার নামখানা এতই খাসা – রামু পাকা ‘লঙ্কা’ – যে সবাই তার নামের মানে খুঁজতেই অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেলে। তারপর আর মনে থাকে না কি দরকারে তার কাছে আসতে হয়েছিল। রামু পাকা একজন ঢ্যাঁড়া পেটানো লেখক। ‘লঙ্কা’ তার ছদ্মনাম। সেই নামে সে নাকি বিস্তর বই লিখেছে। নিন্দুকেরা যদিও বলে যে রামু পাকা ‘লঙ্কা’ যখন লোটারাজ্যের পাটমন্ত্রী ছিল, সেই সময়েই এসব বই লেখা। সেগুলো যে আদপে কার লেখা আর কি যে আছে সেইসব বইয়ের মধ্যে, তা কেউ জানে না। কিন্তু আমাদের তবু বোন আর এই রামু পাকা দুজনেই দুজনকে খুব হিংসে করে কারন দুজনেই মনে করে তার থেকে ভাল লেখক ও জ্ঞানী এই পুরো পৃথিবীতে আর কেউ নেই।

    রামু পাকা চেয়ারে বসার সাথে সাথে হবু-রাজা আর সাংবিধানিক রাজগুরু জগন্নাথের কাছে অনেক বিরোধী চিঠি এসেছিল। কেউ বলেছিল, ‘লঙ্কা’র লেখাপড়া নাকি সব ভুয়ো। তার দাবি করা সমস্ত কলা আসলে কাঁচকলা। তার জন্ম-তারিখ নিয়েও গড়বড় আছে। কেউ লিখেছিল, ‘লঙ্কা’ একদম অগা, হাজার আর লাখের তফাৎ বোঝে না। কেউ একধাপ এগিয়ে বলেছিল, হাত দেখা জ্যোতিষ ছলা-কলাকে ‘লঙ্কা’ কলার খোসা ছাড়িয়ে বিজ্ঞান হিসেবে চালাতে চায়। হবু কোন উত্তর দেয় নি, শুধু মুচকি হেসেছিল। মনে মনে বলেছিল, হুঁ হুঁ বাবা, অনেক খুঁজে এই ধানিলঙ্কা পেয়েছি, একে কি আর ছাড়া যায়! তাছাড়া গোবর দেশে সব মন্ত্রীর লেখাপড়াই আগাগোড়া জলে ভর্ত্তি। ঠগ বাছতে গেলে গাঁ খালি হয়ে যাবে। অবশ্য জগন্নাথ এসবের কোন জবাব লিখতে পারে না। তার যেহেতু কোন হাত নেই।   

    যাই হোক, চেয়ারে বসেই রামু পাকা সবাইকে জানিয়ে দিল যে এবার থেকে তার অফিসিয়াল নাম রামু পাকা ‘লঙ্কা’, শুধু রামু পাকা নয়। এবং এবার থেকে তাকে যদি কেউ প্রেম বা ধিক্কার বা খেউড় বা দপ্তরী পত্র লিখতে চায়, তাহলে গোবর দেশের জাতীয় ভাষা ‘হান্ডী’তেই লিখতে হবে। নাহলে ডান্ডা মেরে লঙ্কা সবাইকে হান্ডী শেখাবে। ব্যস্‌, দৌড়োদৌড়ি শুরু হয়ে গেল। কেউ দহি-হান্ডী, কেউ মটকা-হান্ডী, কেউ কুলপি-হান্ডী, যে যা পারল শিখতে শুরু করল। নাহলে তো কাগজপত্র সব আটকে যাবে। সই হবে না। শোনা যায়, সেই সময় তবু বোন-ও ঝালমুড়ি-হান্ডী শিখতে শুরু করেছিল, এবং তারপর থেকে মাঝে মাঝেই সবার সামনে এসে কেতা দেখিয়ে দু’এক লাইন এমন হান্ডী বলত যে হাটে-হান্ডী ভাঙার যোগাড় হত। সেই ঝালমুড়ি-হান্ডী শুনে গম্ভীর মুখে হাততালির জায়গায় কেউ যদি বেফাঁস হেসে ফেলত, তবুর এক ঝানু একজিকিউটিভ মোসাহেব এসে নাকি সেইসব ফিচকে লোকেদের শুঁটিয়ে লাল করে দিত। হবু এইসব দেখে বেশ মজা পেত। কাউকেই কিছু বলত না। কারন হবু জানত রামু পাকা ‘লঙ্কা’ হান্ডী ছাড়া আর কোন ভাষাই জানে না। আর সেজন্যই সে এত চেষ্টা করছে সেই দোষ ঢাকার।

    তো, সেই রামু পাকা ‘লঙ্কা’ হঠাৎ একদিন ছেলে থেকে পিলে, সবাইকে লেখাপড়া শেখানোর এক নতুন নিয়ম নিয়ে হাজির। ফরমান জারি হল এবার থেকে গোটা গোবরদেশে এই নিয়মেই লেখাপড়া চলবে। নিয়মের নাম ‘হরিদাসের চুলবুলভাজা’। একেক মুঠোয় একেক রকম ভাজা। কখনো ছোলা, কখনো বাদাম, বরবটি, মটর, চিঁড়ে, ডালভাজা – যা খুশি। ছেলেরা যেটা খুশি খেতে পারে। সেটা খেয়ে যে রকম স্বাদ মনে হবে, সেটাই ঠিক। ভুল লিখলেও কোন পরীক্ষা হবে না। শুধু একটাই শর্ত, চুলবুলভাজা খেতে হবে হান্ডী বা বাবাহান্ডী বা দাদুহান্ডী ভাষায় কথা বলতে বলতে। ডাবুর দেশের আংলা ভাষা বলা চলবে না। আর খাবার পাত্র ছোটবেলা থেকে নিজেকেই বানিয়ে নিতে হবে। নাহলে আত্মনির্ভর গোবরদেশ তৈরি হবে না। এবং আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার লক্ষ্যে স্কুল ফাটাফুটো থাকলে সেটাই থাকবে, স্কুল সারানোর জন্য একটাও মোহর খরচ করা হবে না। দরকার পড়লে ছেলে-ছোকরারা নিজেদের তাগিদেই স্কুলের ভাঙা দেওয়াল বা ছাদ মেরামত করে নেবে।

    লঙ্কার ঝাঁঝ নাকে এলেই যেমন সবাই পিড়িং পিড়িং লাফাতে থাকে, তেমনি এই নিয়ম আসতেই বিভিন্ন রাজ্যের পাটমন্ত্রীরা লাফ মেরে আপত্তি জানাতে শুরু করল। শিঙেরাজ্যেও সেটাই হল। শিঙেরাজ্যের লেখাপড়া সচিব কুমড়োখুড়ো রামু পাকা ‘লঙ্কা’র থেকেও বুদ্ধি ও কলেবরে দু’কাঠি ওপরে। কিছু না পড়ে না বুঝে লিখে পাঠাল ‘এই নাকি চুলবুলভাজা! বাসি, পচা। বোতল থেকে সেই চুলুলুলুর বাপের আমলের পুরোন গন্ধ ভেসে আসছে। খুব খারাপ নিয়ম। ‘লঙ্কা’ ব্যাটা মহা ধড়িবাজ। ও কি ভাবে? নিজের বাসি চুলবুলভাজা সব জায়গায় চালিয়ে দেবে আর আমরা মেনে নেব? কেন, আমরা চুলবুলভাজা নিজেরা বানিয়ে নিতে পারি না? হবু শুধু মোহর দিক, বাকিটা আমরা বুঝে নেব’। দক্ষিণের মোষরাজ্য ফোঁস ফোঁস শ্বাস ফেলে শুরুতেই জানিয়ে দিল ‘মানছি না, মানব না’।

    হবু কিন্তু এই নিয়ম দেখে দারুন খুশি। ‘ফাটাফাটি, বুঝলে লঙ্কা, ফাটাফাটি। তোমার এই নিয়ম’ – হবু বলেই ফেলল রামু পাকা ‘লঙ্কা’-কে। ‘এইটাই তো চাইছিলাম। কি শিখছি, কেন শিখছি, তাতে বিজ্ঞান কোথায়, এসব বোঝাতে হবে ভাবলে চলবে না। বোঝানোর কোন দরকার নেই। কারন বুঝলেই রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করবে। দেশদ্রোহী তৈরি হবে। নাহলে ডাবুর দেশে চলে যাবে। এইসব কোন সুযোগ দেওয়া যাবেই না। ছেলে-পিলে দের থাকতে হবে এই গোবর দেশেই। সবাই শিখুক হান্ডী,  বাবাহান্ডী, দাদুহান্ডী। শিখুক ঝালমুড়ির ঠোঙা বানাতে। তবেই গোবর দেশের মজদুর তৈরি হবে। ভাঙা ফাটা স্কুলে পড়ুক, তবেই বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখবে। আর তোমার ঐ চুলবুলভাজার কনসেপ্টটা, বুঝলে লঙ্কা –- অ-সাম। লঙ্কা খেয়ে জিভ জ্বলে যাবার মত। ভূত জলাকিয়া। তৈরি হোক একেকটা মানুষের শরীরে হাতির মাথা। হাঁসজারু। কেউ যেন কিছু না বোঝে। সেটাই তো চাই। শুধু সময়ে সময়ে এসে ব্যালট বাক্স-টা ভরে যাক আর ডাকলে নাওয়া-খাওয়া ভুলে মন্দিরের ইঁট গাঁথতে চলে আসুক। কিন্তু লঙ্কা, তুমি এত সুন্দর ভাবে আমি কি চাইছি সেটা বুঝতে পারলে কি করে?’ রামু পাকা ‘লঙ্কা’ প্রশংসায় গলে সবুজ থেকে প্রায় লাল হয়ে গেছিল, এবার গদগদস্বরে বলল ‘সর্দার, আমি সেই ছোটবেলা থেকেই আপনার চা খেয়েছি। তাই না বললেও সব বুঝি’।

    হবু এবার গম্ভীর গলায় বলল ‘শুধু একটা ব্যাপার মাথায় রেখো লঙ্কা, তুমি যেমন প্রথম থেকেই লাখ আর হাজারে গুলিয়ে, বিজ্ঞান আর ইতিহাস আর রূপকথায় গুলিয়ে, লক্ষ বছর আগে অ্যাটম বোম মারা বা ডাবুর দেশে বাবাহান্ডী দিয়ে তোতা-কম্পিউটার তৈরি হচ্ছে, এইসব বলে আসছ, তেমনি আমি চাই তুমি দিকে দিকে তোমার কিছু অনুগামী তৈরি কর যারা তোমার মতই আকাট কথাবার্তা বলবে। নাহলে গোবরবাসীর মগজ-প্রক্ষালক যন্ত্র ঠিক জমবে না’। ‘লঙ্কা’ আরো ভক্তিভরা স্বরে বলল ‘প্রভু, সেই নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। পূবদিকে শিঙেরাজ্যে আছে আমাদের প্রতিনিধি দ্য-ঘোঁচু। সে মাঝে মাঝেই গরুর দুধ থেকে সোনা তৈরির আর গরুর মুত থেকে ছোঁয়াচে রোগ সারানোর নানা কারিগরি উপায় বলে। উত্তর-পূর্বে মানিক প্রদেশের পাটমন্ত্রী বিল্লু-ভয়ঙ্কর আরো এককাঠি ওপরে। সে সবার সামনে ঘোষনা করে যে গোবর দেশের সিভিল পরীক্ষা সিভিল কারিগরি ছাত্রদের জন্য বা অঙ্ক শিখতে হলে অঙ্কোলজিস্ট খুঁজতে হয়। এমনকি উত্তর-পশ্চিমে আমাদের প্রতিনিধি আজুবা-ভাই বৌঠাকুরাণীর পাঁপড় নিয়ে জনগনকে মহামারী নিকেশের গল্প শোনায়। এরা সবাই আমার খুব ঘনিষ্ঠ প্রভু। এবং এদের এইরকম বানাতে অনেক পাঁপড় বেলতে হয়েছে। সেজন্যই আজ সোনা ফলেছে। আপনি ধৈর্য্য ধরুন, আমার এই ‘হরিদাসের চুলবুলভাজা’ আর হান্ডি-পুরান দিয়ে দেশ জুড়ে কত এইরকম দ্য-ঘোঁচু বানাব দেখুন। শুধু তবু বোনকে একটু নজরে নজরে রাখতে হবে। ফর্মে থাকলে ও একাই সিধু-কানু-ডহর দিয়ে অথবা হাম্বা-হাম্বা-হো দিয়ে সবাইকে ক্লিন বোল্ড করে দিতে পারে। আমাদের বিরোধী পার্টি তো – তাই তবু বোন আকাট শিরোমনি উপাধি পেয়ে গেলে আমাদের লস। ভোটাররা হাম্বা-হাম্বা করে ওর দিকেই দৌড়বে। তাই ওকেও নজরে রাখছি। তলে তলে লোটারাজ্যের অগগা বোনকে তৈরি করছি। ‘গরিলা চালিশা’ দিয়ে কিভাবে রোগ সারে, ও এখন সেইসব বলে বেড়াচ্ছে। খাঁটি হিরে। কোন্‌দিন শুনবেন ফল্গু নদীর জল দিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রনের আলটপকা থিয়োরী নিয়ে চলে এসেছে। এইরকম ভূষিমাল আরো অনেক বানাব। আমার ওপর আস্থা রাখুন প্রভু। আমাদের দলের সবাই রামহাতুড়ি নিয়ে ধর্ম দিয়ে গোবরদেশ ভাঙছে আর আমি চাইছি আমার হান্ডিহাতুড়ি নিয়ে ভাষা দিয়ে দেশটাকে টুকরো করতে। এইফাঁকে আপনি ‘আরো দূরে চলো যাই…’ গানের সুরে বাঁশি বাজিয়ে প্রজাদের চোখে নেশার ঠুলি পরিয়ে ওদের নিয়ে ধাপে ধাপে পেছোতে থাকুন’। 

    হবুর চোখে জল এসে গেল। আপ্লুত হয়ে হবু সেদিন জীবনে প্রথমবারের জন্য একটা কবিতা লিখে ফেলল –

    “ধন্য তুমি লঙ্কা / আর মনে নেই শঙ্কা / এবার বাজাব তোমার ডঙ্কা”  

    (এটা গোবরদেশের চুপকথার গল্প। ছেলে ভোলানোর জন্য বয়স্করা এসব বলে থাকে। কেউ যদি এর সঙ্গে কারো মিল খুঁজে পান, সেটা নেহাতই কাকতালীয়)

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং

    বরাকে কয়লা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরব হিন্দু ছাত্র যুব পরিষদ

    বরাকের একাংশ রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিক ও পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের মদতে অবৈধ চক্র মাথাচাড়া দিয়েছে।

    নেতাজির জন্মদিনকে ‘পরাক্রম দিবস’ ঘোষণা কেন্দ্রের, জারি বিজ্ঞপ্তি

    এবার থেকে নেতাজির জন্মদিন 'পরাক্রম দিবস' হিসেবে পালন করা হবে বলেই জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক।

    শিলচরে ভাড়া ঘরে থেকে অভিযান চালাত ছিনতাইবাজরা, ধৃতের স্বীকারোক্তি

    ধৃত যুবক জানায় তারা মোট চারজন এসেছিল শিলচরে। বাইকে চড়ে সাম্প্রতিককালে শহরে যেসব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, সব তাদেরই কাজ।

    সোনাই, দঃ করিমগঞ্জ সহ রাজ্যের ৭ আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেবে বিজেপি

    সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় সংখ্যালঘু প্রার্থী প্রদান করলে ভোট পরিস্থিতি অনুকূলে যাবে।এই চিন্তা করেই ৭ কেন্দ্রে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করেছে দল।

    অন্তর্ঘাত নয়, কারিগরি সমস্যায় নষ্ট হয় হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন!

    ভ্যাকসিন জমাটবাঁধা কাণ্ডের পর এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপাতত চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক ভিত্তিতে মেডিকেলে পাঠানো হচ্ছে ভ্যাকসিন।

    পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলনে ২৭শে করিমগঞ্জ সফরে রঞ্জিত দাস

    তিনদিনের সফরসূচি নিয়ে ২৭ জানুয়ারি করিমগঞ্জ আসছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি রঞ্জিতকুমার দাস।

    ৩০ জানুয়ারি দেশজুড়ে ২ মিনিটের নীরবতা পালনের নির্দেশ

    স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতিতে নীরবতা পালনের ডাক দিল মোদি সরকার।