27 C
Guwahati
Sunday, August 7, 2022
More

    বরাক নদী থেকে উদ্ধার ব্যাঙ্ককর্মীর মৃতদেহ, সন্দেহ খুন

    শিলচর, ৯ ডিসেম্বর : ঘনিয়ালা এলাকায় বরাক নদী থেকে উদ্ধার যুবকের মৃতদেহ শনাক্ত হয়েছে। রাজু রজক নামে ব্যাঙ্ক কর্মী এই যুবককে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। এ মর্মে সন্দেহ ব্যক্ত করে রাজুর ভাই উমেশ রজক সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
    রাজুর পৈত্রিক বাড়ি শিলচরের জানিগঞ্জ এলাকায়। তবে তিনি পত্নী ও শিশু পুত্রকে নিয়ে থাকতেন রংপুরে ভাড়াবাড়িতে। গত ৫ ডিসেম্বর শনিবার থেকে তিনি ছিলেন সন্ধানহীন। শনিবার ঘনিয়ালায় বরাক নদীতে তলিয়ে যায় অজয় দাস নামে এক কিশোর। সোমবার তাঁর খোঁজে এসডিআরএফ জওয়ানরা  ঘনিয়ালা এলাকায় নদীতে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধার হয় রাজুর মৃতদেহ। তখন কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। মঙ্গলবার তাঁর পত্নী মায়া রজক শনাক্ত করেন মৃতদেহ।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মায়া রজক রংপুর পুলিশ পেট্রোল পোস্টে স্বামীর সন্ধানহীন হওয়া নিয়ে রিপোর্ট করতে যান। তখন ঘনিয়ালায় নদী থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেখানে গিয়ে দেখেন মৃতদেহ তার স্বামী রাজুর-ই। মালুগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লাবণ্য বড়ো জানান, গত শনিবার থেকে রাজু সন্ধানহীন থাকলেও পত্নী মায়া এতদিন পুলিশে কোনও রিপোর্ট করেন নি। এদিন সকালেই তিনি রিপোর্ট করতে যান রংপুর পুলিশ পেট্রোল পোস্টে। কেন এতদিন স্বামীর নাপাত্তা হওয়া নিয়ে রিপোর্ট করেন নি, এ নিয়ে মায়া পুলিশকে জানিয়েছেন, রাজু মাঝে মাঝেই কিছুদিনের জন্য তাঁকে কিছু না জানিয়ে রাত কাটাতেন অন্যত্র। কখনও থাকতেন জানিগঞ্জে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে, কখনও বা অন্যত্র। তাই শনিবার থেকে রাজু বাড়ি না যাওয়ায় তিনি অন্য কিছু ভাবতে পারেননি। তবে এদিন জানিগঞ্জে রাজুর পৈতৃক বাড়িতে তাঁর না যাওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি “মিসিং রিপোর্ট” করতে যান।
    মায়া এভাবে বললেও, ইনচার্জ লাবণ্য বড়ো সন্দেহ ব্যক্ত করেন, ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কোনও রহস্য। এদিকে রাজুর ভাই উমেশ রজক এদিন সদর থানায় এক এজাহার দায়ের করেছেন। এতে তিনি রাজুকে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ ব্যক্ত করেন। রাজুর অন্য ভাই শিলচর সার্কিট হাউসের কর্মী অশোক রজক জানান, রাজু ছিলেন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। ২০১৪ সালে তার বিয়ে হয় মায়া রজকের সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পরই মায়াকে নিয়ে রাজু জানিগঞ্জের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে চলে যান ভাড়াঘরে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থাকার পর কিছুদিন ধরে তারা রয়েছেন রংপুরে। তাদের পাঁচ বছরের এক সন্তানও  রয়েছে। অশোকের প্রশ্ন, পত্নী মায়া যতই বলুন রাজু মাঝে মাঝেই বাড়ির বাইরে থাকতেন বলে তিনি পুলিশে এতদিন রিপোর্ট করেন নি, তবু তদন্তে পুলিশের সব দিকই  খতিয়ে দেখা উচিত।

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং