24 C
Guwahati
Thursday, November 24, 2022
More

    পড়ে আছে মেশিন, করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে আইসিইউ এখনও অধরা

    বিশেষ প্রতিনিধি, করিমগঞ্জঃ করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে আইসিইউ গড়ে তোলার জন্য আগস্ট মাসেই ভেন্টিলেটর মেশিন আসে। কিন্তু মাস গড়িয়ে গেলেও আইসিইউ চালুর বিষয়টি এখনও অধরাই থেকে গেছে। অথচ করোনা ভাইরাসের হানা পড়ার পর থেকেই জোরালো দাবি উঠে আসছে করিমগঞ্জের কোভিড হাসপাতালে আইসিউ শয্যা বসানোর জন্য। কারণ, অক্সিজেন থেরাপি বা ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন পড়লে সেটা করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে দেওয়া সম্ভব নয়। স্থানান্তর করতে হবে শিলচর মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পথে শরীর আরও বিগড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছেই। এর ফলে এর ফলে এমন পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে যে, অধিকাংশ আক্রান্ত লোকেরা করিমগঞ্জের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হতেই রাজি হননি। প্রতিদিনই বেশ কিছু কোভিড রোগীকে সোজা শিলচর মেডিক্যাল কলেজে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    করিমগঞ্জের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য মিশনের ডিস্ট্রিক্ট প্রজেক্ট ম্যানেজার হানিফ মহম্মদ বলেন, ‘কুড়ি শয্যার আইসিইউ স্থাপনের জন্য ভেন্টিলেটর মেশিন ও শয্যা আমাদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে। এই সামগ্রীগুলি নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু অক্সিজেন পাইপ লাইনের কাজ না হওয়ার ফলে আইসিইউ-কে কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এই কাজের দায়িত্ব পিডব্লুডি বিভাগের উপর রয়েছে। তাঁরা অক্সিজেনের কাজ শেষ করে নিলেই আইসিইউ চালু করতে আর বিলম্ব হবে না।’

    তবে অক্সিজেন পাইপ লাইনের কাজ সম্পূর্ণ করা অবশ্য বেশ জটিল আর কিছুটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। শিলচর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ বাবুল বেজবরুয়া বলেন, ‘নূতন চল্লিশ শয্যার আইসিইউ-র কাজের সময়ে আমাদেরও অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। বাকি সামগ্রীগুলির কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছিল। এমনকি স্থানে স্থানে শয্যাগুলিকে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সেরে রাখা হয়েছিল। বাকি ছিল কেবল অক্সিজেন যোগানের ব্যবস্থা সারা।’

    অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে কেমন সময়ের প্রয়োজন?

    বরাক উপত্যকার পিডব্লুডি বিল্ডিং বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গণেশ চন্দ্র বরা জানালেন, ‘করিমগঞ্জের সিভিল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার জন্য অক্সিজেন সরবরাহের কাজ এখনই শুরু করা যাচ্ছে না। কারণ, এই কাজের টেণ্ডার প্রক্রিয়া চলছে। তারপর দিসপুর থেকে কোনও ঠিকাদারকে কাজের বরাত দেওয়া হবে। এসব হয়ে গেলেই একমাত্র আমরা কাজ শুরু করতে সক্ষম হব।’

    সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে কতদিনের প্রয়োজন?

    গণেশ বরার মন্তব্য, ‘টেণ্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার বিষয়ে আমার কিছু নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ, সেটা দিসপুর থেকে করা হচ্ছে। তবে কাজের বরাত সম্বন্ধীয় সবকিছু হয়ে গেলেও হাসপাতালে অক্সিজেনের পাইপলাইন প্রতিস্থাপনে কমপক্ষে কুড়ি-পঁচিশ দিন সময় তো লাগবেই।’

    অর্থাৎ টেণ্ডার প্রক্রিয়া ও তারপর অক্সিজেন পাইপলাইনের সংযোগ, সবমিলিয়ে প্রায় দু’মাসের মত সময় লেগে যাওয়ারই সম্ভাবনা। এরপরই কর্মক্ষম হবে করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের আইসিইউ।

    উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের দিশাহীনতার ফলেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে করিমগঞ্জের কোভিড আক্রান্তদের। আইসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বহু আগে থেকেই শোনা যাচ্ছে। বিধানসভায় মার্চ মাসেই আমার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছিল যে করিমগঞ্জে আইসিইউ চালু করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। কিন্তু এরপরেও সেটা আর হল কই? এখনও যদি অক্সিজেন সরবরাহের টেণ্ডার প্রক্রিয়াই চলে তাহলে সব কিছু শেষ হতে আরও তিন মাস লেগে গেলেও অবাক হব না আমি।’ 

    বিজেপি-র করিমগঞ্জ জেলার সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য অবশ্য বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সফরকালে তিনি সিভিল হাসপাতালে আইসিইউ চালুর বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। এ বিষয়ে একটি স্মারকপত্রও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, করিমগঞ্জে আইসিইউ-র শয্যাগুলি দ্রুত কর্মক্ষম করে তোলার জন্য সব প্রচেষ্টা চালাবে রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। 

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং