28 C
Guwahati
Tuesday, October 4, 2022
More

    ‘প্রাণঘাতী’ সোয়াব টেস্ট, নাক দিয়ে বেরিয়ে এল ব্রেন ফ্লুইড!

    ওয়াশিংটন, ৩ অক্টোবরঃ মারণভাইরাস শরীরে বাসা বেধেছে কিনা, তার জানার সহজ উপায় হল সোয়াব টেস্ট। যা নাক দিয়েই সাধারণত নেওয়া হয়। তবে এই পরীক্ষাও অসাবধানতায় মারাত্মক হতে পারে। এমনকি ঠিকভাবে কাঠি নাকে প্রবেশ করাতে না পারলে ঘটতে পারে মৃত্যুও। এমনই একটি কাণ্ড ঘটেছে আমেরিকায়।৪০ বছর বয়সী মার্কিন এক মহিলার সোয়াব টেস্ট করার সময় ঘটে যায় অঘটন। নাক থেকে সোয়াব সংগ্রহ করা হচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎ করে সর্দির মতো তরল বের হতে শুরু করে। সোয়াব সংগ্রহ করার সময়ই তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয় নাকে। তারপর থেকেই নাক থেকে এক ধরণের তরল পদার্থ বের হতে থাকে। পরে পরীক্ষা করে চিকিত্‍সকরা জানান, ওই মহিলার সোয়াব টেস্টের সময় মাথার খুলিতে গিয়ে কাঠিটি আঘাত করে। মাথার খুলির বাইরের একটি অংশ যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই কারণেই নাক দিয়ে ব্রেন ফ্লুইড বেরিয়ে আসে।

    ওই মহিলা আদৌও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। তবে তাঁর মস্তিস্কে অপারেশন করার সময় বিষয়টি পরিস্কার হয়। নিউইয়র্কের এক হাসপাতালের স্পেশালিস্ট জানিয়েছেন, সোয়াব টেস্ট করার জন্য দরকার দক্ষ কর্মী। সঠিকভাবে প্রয়োগ না করতে পারলে যে কোনও সময় বিপদ ঘটতে পারে। ওই মহিলার ক্ষেত্রে যা হয়েছে সেটা একটা উদাহরণমাত্র।

    যেখানে ওই মহিলার সোয়াব টেস্ট হয়েছিল সেই ইউনিভার্সিটি অফ তওয়া হাসপাতালের কর্মী ওয়ালস জানিয়েছেন, হার্নিয়া অপারেশনের পর ওই মহিলার নাজাল টেস্ট হয়। কিছুক্ষণ পরই নাকের একটি দিক দিয়ে ফ্লুইড বের হতে থাকে। সোয়াব টেস্টের পর বোঝা যায়নি যে তাঁর মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। টেস্টের বেশ কিছুক্ষণ পরই মাথা ধরা, বমি বমি ভাব, নাক বুজে যাওয়া, আলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে না পারা- এসব সমস্যা হতে শুরু করে তাঁর। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    জানা গেছে, ওই মহিলা বেশ কয়েকবছর ধরেই হাইপারটেনশনের জন্য চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিচ্ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোয়াব টেস্ট করার জন্য পেশাদারিত্ব খুব জরুরি। নমুনা সংগ্রহকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের যে কোনও রোগীর অতীতের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব বিষয়েই জেনে নেওয়া দরকার। সাইনাস বা মাইগ্রেন কিংবা মস্তিষ্কে কোনও অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে সেইসব রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ওই মহিলার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। চিকিত্‍সকদের মতে, ওই ঘটনার ফলে ওই মহিলার মস্তিষ্কের উপর বিশাল চাপ পড়তে পারত। নাকের মাধ্যমে খুলির একাংশ ফুটো হয়ে গেলে অনেক সময় বাতাস প্রবেশ করে তাতে চাপ সৃষ্টি হয়। খুলির মধ্যে বাতাস প্রবেশ করলে সেই ব্যক্তির মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। পাঁচ সেকেন্ডের একটি টেস্টকে কখনও হালকা ভাবে নয়, বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্‍সকমহল। কারণ এই পাঁচ সেকেন্ডেই একটি মানুষের প্রাণ নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে।

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং