19 C
Guwahati
Sunday, April 18, 2021
  • হোম
  • ভিডিও
  • টাইমকাষ্ট
More

    নাগরিকত্বের ভিত্তিবর্ষ ১৯৭১ না ১৯৫১?

    পার্থপ্রতিম মৈত্র

    আসাম হচ্ছে আপাতত হিন্দুত্বের টেস্টিং গ্রাউণ্ড, ল্যাবরেটরি। আপনি ভাবলেন এটা বুঝি খুবই লজ্জাজনক, সংবিধান-বিরোধী বাক্যপ্রয়োগ। হায় রাম, আপনার তো রামেই গলদ। যাকে বলছেন, দেখলেন গর্বে তার সিনা টান হতে হতে ৫৬ ইঞ্চি হয়ে গেল। আর শুনলেন উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ এবং আপনার বংশের প্রতিটি মহিলাকে বাক্যধর্ষণের অমৃতসমান বাক্যবিন্যাস।

    যা বলছিলাম। অমিত-মোদীর রণকৌশল হচ্ছে প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত অরক্ষিত আতঙ্কিত করে দিয়ে যুদ্ধজয়। এন.আর. সি./ সি.এ.বি, এসব নিয়ে যখন আমরা কেউ কেউ ভারতবর্ষকে সতর্ক করার চেষ্টা করছিলাম, তখন অনেকেই বলেছিলেন ফালতু ভয় দেখাবেন না, ওটা শুধু আসামের জন্য।

    অপ্রস্তুত, অরক্ষিত, আতঙ্কিত, ভারতবাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়ে অমিত-মোদী যখন ঘোষণা করে দিলেন এটা শুধু আসাম কেন, সারা ভারতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তখন প্রতিপক্ষ অফগার্ড।

     প্রতিটি ক্ষেত্রে একই স্ট্র্যাটেজি। কিন্তু আমরা তো শপথ করেছি, ভুল থেকে কিছু শিখবো না। তাই নোটবন্দী দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল আর করোনা-লকডাউনের মাঝখানে নব্য-জাতীয়-শিক্ষা নীতি পর্যন্ত একই খেলা। বিরোধীরা আঁচ পায় না, প্রস্তাবনা পেশ হয়ে যায়, সবাই কাগজ কলম নিয়ে ব’সে তখন লাভক্ষতির অংক করতে বসে, প্রস্তাব বিপুল গরিষ্ঠতায় পাশ হয়ে যায়।

    আসাম হচ্ছে আপাতত বিজেপির টেস্টিং গ্রাউণ্ড, ল্যাবরেটরি। এবার সেখানে নতুন খেলা শুরু হয়েছে। খিলঞ্জিয়া অর্থাৎ ভূমিপুত্রদের নিয়ে শুরু হয়ে গেছে নতুন খেলা। হ্যাঁ করোনা-লকডাউনের মধ্যেই। এন.আর. সি. তে আপনি জানেন ভিত্তিবর্ষ ছিল ১৯৭১। সি.এ.এ তে ভিত্তিবর্ষ করা হলো ২০১৪। সব যদি ঠিকঠাক এগোয় তবে ভারতে এন.আর.সি-র ভিত্তিবর্ষ হতেই পারে ১৯৫১ সাল।

    আসামে মাত্র উনিশ লক্ষের সামান্য বেশী আপাতত চিহ্নিত বিদেশী কোনও পক্ষকে খুশী করতে পারেনি। ভিত্তিবর্ষ করা হয়েছিল ১৯৭১ সাল। এবার এসেছে বিপ্লব শর্মা কমিটির সুপারিশ। হঠাৎ করে রাজীব গান্ধীর আমলে করা আসামচুক্তির ৬ নং ধারাকে কবর থেকে তুলে আনা হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে ১৯৫১ সালের আগে যারা আসামে এসেছে তারাই ভূমিপুত্র।  সরকারী চাকরীর (৮০% থেকে ১০০%) সংরক্ষণ থেকে শুরু করে সর্বত্র তাদের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা।এমনকি জমি বিক্রির বিষয়টিও খিলঞ্জিয়াদের মধ্যেই সংরক্ষিত রাখতে হবে। কাশ্মীরের প্রক্রিয়ার ঠিক উল্টো।

    কিন্তু যাই হোক না কেন নাগরিকত্বের মূল ভিত্তিবর্ষ ১৯৭১ থেকে পিছিয়ে ১৯৫১ সালে সরে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে একটি নতুনতর  উপাদান। ভূমিপুত্র-কন্যা। বহিরাগতদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের বাতাবরণ তৈরী হয়ে যাচ্ছে। সারা ভারতে এই প্রবণতা ক্রমঃবর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গও তার ব্যতিক্রম নয়। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা তো ছিলই, এবার তার সঙ্গে ভাষা-সাম্প্রদায়িকতাও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে নতুন করে মাৎস্যন্যায় শুরু হলো বলে।সংখ্যাগুরুর ধর্মের পিছনে সংখ্যাগুরুর মূল অংশকে ভিড়িয়ে দেওয়ার সাফল্য আমরা দেখে নিয়েছি। এবার দেখবো সংখ্যাগুরুর ভাষার পিছনে সংখ্যাগুরুর মূল অংশকে ভিড়িয়ে দেওয়ার সাফল্য। 

    Accord

    অনাগরিকের সংখ্যা বাড়বে কারণ ৭১ এর প্রমাণপত্র জোগাড় করতে যারা আতংকিত হয়ে উঠেছিল, ৫১ সালের প্রমাণপত্র জোগাড় করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তখন সি.এ.এ দিয়ে তাদের অধিকাংশকে নাগরিকত্ব দেবার চেষ্টা করা হবে। তাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, মুসলিমদের প্রান্তিক করে দেওয়া যাবে। এর সঙ্গে ভাষা-সাম্প্রদায়িকতা ঢুকে পরিস্থিতি এলোমেলো করে দেবে। এলোমেলো করতে পারলেই তো লুটেপুটে খাবার সুবিধা। লকডাউনে অর্থনৈতিক ভাবে বিধ্বস্ত ভারতবর্ষকে, সামাজিকভাবেও বিধ্বস্ত করে দিতে পারলে, দেশটাকেই নিলামে চড়িয়ে দিতে সুবিধা হবে।

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং

    আজি সতী সাধনী দিৱস; জানো আহক সতী সাধনীৰ ইতিহাস

    যিকেইগৰাকী অসমীয়া বীৰাংগনাৰ নাম বুৰঞ্জীৰ বুকুত স্বৰ্ণলিপিৰে খোদিত হৈ আছে তেওঁলোকৰ ভিতৰত এটি অন্যতম নাম সতী সাধনী

    রাজ্যে নবম শ্রেণি থেকে অসমিয়া বাধ্যতামূলক, সেবার বিকল্প গাইডলাইন জারি

    যদি কোনও ছাত্ৰ-ছাত্ৰী অসমীয়া বিষয়টি MIL এবং ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে না নেয়, তাহলে তাকে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে নিতে হবে।এই ক্ষেত্রে পরীক্ষাৰ্থীর মোট ৭ টা বিষয় হবে।

    ডেঙ্গি থেকে পুরো রেহাই! পেঁপে পাতার রস খেয়ে মৃত্যু দু’জনের

    বাড়িতে বানানো পেঁপে পাতার রস খেয়ে মৃত্যু হল ১৮ বছরের কিশোর ও তাঁর ১০ বছরের বোনের। হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও একজন।

    সুপ্রিম কোর্টের ৫০ শতাংশ কর্মীই করোনা আক্রান্ত, বন্ধ হল আদালত

    সোমবার সকালেই জানা গেল, শীর্ষ আদালতের ৫০ শতাংশ কর্মীই নাকি করোনা আক্রান্ত। যার ফলে ঘণ্টাখানেক দেরিতে বসেছে বেঞ্চ। পরে তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পুরো আদালত চত্বর।

    করোনার ভয় নেই, কুম্ভমেলায় প্রথম শাহি স্নানে পূণ্যার্থীদের ঢল

    সোমবার ছিল প্রথম শাহি স্নান। ভোর থেকেই শুরু হয় স্নান। যখন দেশে করোনা সংক্রমণ বিদ্যুতের গতিতে বাড়ছে তখন কুম্ভমেলার ভিড় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।

    বারুণী স্নানে বরাকের দুই তীরে জনসমুদ্র, শুরু ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা

    বারুণী স্নান উপলক্ষ্যে প্রতি বছরই জনসমুদ্রের রূপ নেয় বরাক নদীর উভয় তীর অর্থাৎ কাটিগড়ার ঐতিহ্যবাহী বারুণী ময়দান ও অপর তীরের কপিলাশ্রম শিববাড়ি।যার ব্যতিক্রম হয়নি এবারও।

    ১৪ দিনে ভোটের অসমে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে ৩৩১ শতাংশ!

    সভা সমিতিতে কোথাও করোনা বিধি মানা হয়নি। প্রচারে নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে সভায় যোগ দিতে আসা সেই দলের সমর্থকরা, কেউই মাস্ক ব্যবহার করেননি।