17.2 C
Guwahati
Saturday, December 3, 2022
More

    টোল ও মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত ‘বিভাজনে’র লক্ষ্যেই, নদওয়ার আলোচনা সভায় অভিমত

    শিলচর, ১৩ নভেম্বর : রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা সংস্কৃত টোল ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদ অব্যাহত।এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনের আগে সমাজে ‘বিভাজন’ সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য বলে মনে করছে সুশীল সমাজ। শিলচরে উত্তরপূর্ব ভারত এমারতে শররীয়াহ ও নদওয়াতুত তামিরের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন উপত্যকার বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেছেন, রাজ্যে  শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে চলছে  ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া।আমিরে শরীয়ত মওলানা ইউসুফ আলির পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন দক্ষিণ অসম সংস্কৃত প্রচার ও প্রসার সমিতির কর্মকর্তা সহ উপত্যকার বিদগ্ধজনেরা। ছিলেন শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক সহ অনেকে। তাঁরা সকলেই টোল ও মাদ্রাসা বন্ধের নিন্দা জানান।

    প্রাবন্ধিক সঞ্জীব দেবলস্কর বলেন, সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ইত্যাদি ধ্রুপদী বিষয়গুলোর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, সংস্কারের অভাবে এগুলো অবক্ষয়ের শিকার। তাইবলে দীর্ঘবছর ধরে চলে আসা একটা ব্যবস্থাকে হুট করে বন্ধ করে দেওয়া যায় না।অন্তত ভারতের মত গণতান্ত্রিক দেশে এধরণের একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিৎ ছিল,ওই বিষয়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গে একবার আলোচনায় বসা। কিন্তু সেটা করা হয়নি।তাঁর কথায়, যে কাজটি করার কথা মনিষীদের, সেই কাজটি করছেন কয়েকজন ‘পরধর্ম বিদ্বেষী মন্ত্রী’। এদের আচরণ থেকে এটা স্পষ্ট, শিক্ষা সংস্কার তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের উদ্দেশ্য, ‘একটা সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে দেওয়া–আমাদের আমলে তোমাদের অবস্থানটা কী’। প্রসঙ্গক্রমে বাংলা ভাষায় আরবি, ফারসি শব্দের বহুল প্রচলন এবং এগুলোকে বাদ দিলে বাংলাভাষা যে তার সৌকর্য হারাবে—একথাও উল্লেখ করেন সঞ্জীববাবু। দক্ষিণ অসম সংস্কৃত প্রচার ও প্রসার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিরঞ্জন দত্ত উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ শাসনের শুরুতে বহুদিন সরকারি ভাষা ছিল ফারসিই। মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাসও সুপ্রাচীন। পাশাপাশি সংস্কৃত হচ্ছে ভারতীয় ভাষাসমূহের শেকড়। সুতরাং চাইলেই এগুলো বন্ধ করতে পারে না সরকার। কোনও রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেন, সংস্কৃত টোলের তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত। মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণী থেকে অঙ্ক, বিজ্ঞান ইত্যাদি সাধারণ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। বিপরীতে টোল হচ্ছে ‘ভাসমান’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তিনি এ-ও বলেন, ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে  কিছু মাদ্রাসার নাম জড়িয়েছে ঠিকই, তাইবলে সব মাদ্রাসার ঘাড়ে কোপ পড়বে কেন! আমাদের সমাজেও তো চোরছ্যাঁচড় রয়েছে, তাহলে তো সমাজব্যবস্থাকেই বাতিল করতে হয়। সম্প্রীতি এবং সহাবস্থানের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আরও  বলেছেন, ‘মোগলরা আমাদের দেশকে উন্নত করেছে।’

    টোল ও মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ব উপস্থাপন করে সমাজকর্মী সাধন পুরকায়স্থ বলেছেন, এটা একটা স্পর্শকাতর বিষয়। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা যে-সব কথা বলেন, সেটাকে দেশের সংবিধান সমর্থন করে না। টোল কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু অসমের শিক্ষামন্ত্রীর কথায় সংবিধান সংশোধন হতে পারে না। তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান। একইভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান দক্ষিণ অসম সংস্কৃত প্রচার ও প্রসার সমিতির সম্পাদক নীলাচল মিশ্র, অধ্যাপক হিলাল উদ্দিন, সমাজকর্মী হরিপদ রাজভর, জয়নাল আবেদীন,  হিলাল উদ্দিন বড়ভূইয়া, গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাসিম সহ অনেকে।

    স্বাগত ভাষণে আমিরে শরীয়ত মওলানা ইউসুফ আলি বলেন, মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ বিষয়েও শিক্ষা প্রদান করা হয়। টোলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি উল্লেখ করেন, মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসকও। কিন্তু কোনও কিছু বিচার না করে একটা শিক্ষাব্যবস্থাকে উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন, সেটাই বুঝতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, যদি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনও ভুল ত্রুটি থাকে, সেটাকে সংস্কার করে নেওয়া যেত অনায়াসে। যে মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত, সেই তিনিই কয়েক বছর আগে ২০০ মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভারতে মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাস তুলে ধরেন নদওয়াতু তামিরের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মওলানা আতাউর রহমান মাঝারভুইয়া। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আশাবাদী, সরকার এব্যাপারে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে। নাহলে আদালতের পথ খোলা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নদওয়ার কেন্দ্রীয় সম্পাদক মওলানা ওসামা মবরুর, মওলানা সাহাব উদ্দিন, জেলা সভাপতি মওলানা আইয়ুব আলি বড়ভূইয়া, মুফতি আব্দুল বাসিত কাসিমি প্রমুখ।

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং