26 C
Guwahati
Friday, October 7, 2022
More

    গণ সংক্রমণের ঝুঁকি গ্রামাঞ্চলে, ‘নন-অফিসিয়াল’ পজিটিভরাই সুপার স্প্রেডার!

    শিলচর, ১৬ মে : গণ সংক্রমণের ঝুঁকি গ্রামাঞ্চলে, ‘নন-অফিসিয়াল’ পজিটিভরাই সুপার স্প্রেডার! – টেলিভিশনের পর্দায় দিল্লি-মুম্বইয়ের বিভীষিকা দেখার পরও মনের কোণে ক্ষীণ বিশ্বাস ছিল, আর যাই হোক, বড় মহানগরীর মতো পরিস্থিতি অন্তত অসমে বা বরাকে দেখা না-ও যেতে পারে। কিন্তু যত সময় গড়িয়েছে, চিড় ধরেছে সেই বিশ্বাসে। বেলাগাম সংক্রমণে ভর করে ক্রমেই সংহারমূর্তি ধারণ করছে করোনা ভাইরাস। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, জ্বর সর্দি হলেও সেটা চেপে যাচ্ছেন অনেকেই। এই লুকোচুরিতে ‘নন অফিসিয়াল’ করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। কোভিড পরীক্ষায় সাধারণ মানুষের অহেতুক অনীহা এবং গা-ছাড়া মনোভাবের কারণে গোষ্ঠী সংক্রমণের দোরগোড়ায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে অসম। এতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদত জুগিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশ কর্মী। 

    ইতিমধ্যে আইসিইউ শয্যার অভাবে অকালমৃত্যু ঘটেছে শিলচরের তরুণ আইনজীবী ইকবাল বাহার লস্করের। এর আগে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট আসে নেগেটিভ। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, দিন কয়েক আগে তাঁর শরীরে কিন্তু করোনা সদৃশ সমস্ত লক্ষণই পরিলক্ষিত হয়েছে। এরপরও সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিয়েছেন তিনি। জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার পরও তিনি জিপি সভানেত্রীর প্রতিনিধি হওয়ার সুবাদে বাড়িতে জিপির নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছেন। অসুস্থতার প্রথমদিকে ঝড়ে ভাগাবাজার পঞ্চায়েত অফিসে একটি গাছ ভেঙ্গে পড়লে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে গাছ কেটে সরানোর কাজে ছিলেন সক্রিয়।

    পরবর্তীতে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় গোপনে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করান। এতে তাঁর শরীরে ধরা পড়ে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি। তবে স্বাভাবিকভাবেই সেটা আর সরকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ‘নন অফিসিয়াল’ করোনা পজিটিভ ইকবাল  থেকে গিয়েছিলেন বাড়িতেই। শুধু এ-ই নয়, অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাড়িতেই ছিলেন। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় অন্তিম সময়ে। 

    ইকবালের বাড়িতে করোনা পরীক্ষায় পরিবারের এক সদস্য পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। কনট্যাক্ট ট্রেসিং-এ পজিটিভ ধরা পড়েছেন কয়েকজন প্রতিবেশীও। ইকবালের নিকটাত্মীয় মাহমুদুর রহমান জানাচ্ছেন, এদিন পরিবারের মোট ৮ সদস্যের মধ্যে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ইকবালের মা। তাঁকে হোম আইসোলেশনে রাখা  হয়েছে। সংস্পর্শে আসা আরও আরও ১৮ জনকে টেস্ট করা হলে ৬ জনকে পজিটিভ পাওয়া যায়। এদেরও হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁর সংস্পর্শে আসা আরও অনেকেই পজিটিভ  হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না স্বাস্থ্যবিভাগ। বিশেষ করে অসুস্থতার সময় তাঁকে যারা দেখাশোনা করেছেন এবং মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অনেকেই উপস্থিত হয়ে পরিবারের  সদস্যদের সাথে মেলামেশা করেছেন, সামিল হয়েছেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়, এতে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে। 

    এদিকে, বিভিন্ন মহল থেকে জানা যাচ্ছে, বৃহত্তর ভাগা এলাকায় ইকবালের মতো আরও অনেকে গোপনে পরীক্ষা করিয়ে পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিছু কর্মী অর্থের বিনিময়ে ‘নন-অফিসিয়ালি’ টেস্ট করছেন। পজিটিভ ধরা পড়ার পর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনেকে নিজেকে পজিটিভ জেনেও দিব্যি ঘোরাঘুরি করছেন, মিলিত হচ্ছেন যার তার সঙ্গে। তাদের ভাষ্যে নন-অফিসিয়াল পজিটিভরা-ই এখন সুপার স্প্রেডারের ভূমিকা পালন করছেন।  এই পরিস্থিতিতে গ্রামাঞ্চলে করোনা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহলের একাংশ। জানা গেছে, দক্ষিণ ধলাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে বেশ কয়েকজন করোনা পজিটিভ রয়েছেন। ফলে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকেই এগোচ্ছে গ্রাম-কাছাড়।

    আরো দেখুন : নয়া এসওপি : রাজ্যের চা বাগানে ২০ জন পজিটিভ পেলেই কন্টেনমেন্ট জোন

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং