25.4 C
Guwahati
Thursday, October 14, 2021
More

    বিজেপি জমানায় বরাকে ভাষিক আগ্রাসনের কোনও শঙ্কা নেই : রাজদীপ

    শিলচর, ৩১ জানুয়ারি : আসাম আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্যের বক্তব্যের সূত্র ধরে বরাক উপত্যকায় বর্তমানে বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতির মাঝে সাংসদ রাজদীপ রায় জোর গলায় দাবি করেন, বিজেপি জমানায় বরাক উপত্যকায় ভাষিক আগ্রাসনের কোনও শঙ্কা নেই। সঙ্গে তিনি চাকরির ক্ষেত্রে বরাক বঞ্চনার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন।
    আসাম আন্দোলন নিয়ে রাজদীপের বক্তব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আডবাণীরা। আন্দোলনে সমর্থন জানালেও সঙ্গে তারা সরব ছিলেন উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্কে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে তাদের সোচ্চার হওয়ার কথা চেপে রেখে শুধু তুলে ধরা হচ্ছে আন্দোলনে সমর্থনের কথাই। অবশ্য সঙ্গে তিনি আসাম আন্দোলন চলাকালীন বাঙালি নির্যাতনের ঘটনাকে ‘কালো অধ্যায়’ বলে অভিহিত করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে থেকে বেরিয়ে এসে সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় রয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।চাকরির ক্ষেত্রে বরাকের যুবক-যুবতীরা বঞ্চিত হচ্ছে, এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, টেট শিক্ষক হিসেবে এ অঞ্চলের বহু যুবক যুবতী চাকরি পেয়েছেন। আর যদি বঞ্চনা হত, তবে লালাবাজারের মেয়ে এপিএসসিতে প্রথম স্থান অধিকার করতে পারতেন না। এদিন শিলচরে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবে নিজের চিন্তাধারার কথা তুলে ধরে রাজদীপ বলেন, আগে চাকরি ক্ষেত্রে অনেক দুর্নীতি হত। বর্তমানে সব হচ্ছে অনলাইনে। তাই দুর্নীতির কোনও প্রশ্নই উঠে না।

    সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত দলের রাজ্য কমিটির মুখপাত্র বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, কংগ্রেস জমানায় লোকের জমি-গরু বিক্রি করিয়ে টাকা নিয়ে চাকরি দিতেন বিধায়করা। বর্তমানে এমন কোনও কারবার আর নেই। প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে রাজদীপ দাবি করেন, কংগ্রেস বর্তমানে আর মোটেই বিজেপির যোগ্য প্রতিপক্ষ নয়।
    বিজেপির পাল্টা হিসেবে কংগ্রেসও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে শতাধিক আসন পাবে বলে দাবি করতে শুরু করেছে। এ সম্পর্কিত প্রশ্নের সূত্র ধরে রাজদীপ এভাবে কংগ্রেসকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, গত প্রায় দেড় মাস ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিজেপি শুরু করেছে নির্বাচনী কাজকর্ম। দেখা যাচ্ছে, সাড়ে চার বছর আগে সরকার গঠনের সময় আমজনতার মধ্যে দল সম্পর্কে যতখানি উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, বর্তমানেও বহাল রয়েছে তা। শুধু বহাল থাকা নয়, সরকারের কাজকর্মে উৎসাহ উদ্দীপনা আরও কিছুটা বেড়েছে, বলা যায় এমনটাও।
    দলের রাজ্য সভাপতি রঞ্জিতকুমার দাসের সাম্প্রতিক করিমগঞ্জ জেলা সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত জেলার পাঁচটি বিধানসভা আসন এলাকায় দলের পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। এরমধ্যে উত্তর করিমগঞ্জ ৩২০০ জন পৃষ্ঠাপ্রমুখের মধ্যে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৩১০০ জন। পাথারকান্দির ২৮২৯ জন এবং রাতাবাড়ির ২৮০০ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সবাই। দক্ষিণ করিমগঞ্জে উপস্থিতির হার ছিল ৯০ শতাংশ, বদরপুরে তো ১০০ শতাংশ পৃষ্ঠাপ্রমুখের উপরেও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যরাও। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বিজেপি সরকারের কাজের নমুনা এবং নির্বাচনে সম্ভাবনা দেখে কংগ্রেস-এআইইউডিএফ-এর অনেক নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিও ভিড়ছেন দলে। ময়দানের পরিস্থিতি যখন এমন, তখন কংগ্রেসের “১০০+”-এর ডায়লগ হাওয়ায় স্বপ্ন দেখা ছাড়া আর কিছু নয়।
    পৃষ্ঠাপ্রমুখদের বিস্তারিত হিসেব তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এদের মারফত রাজ্যজুড়ে ন্যূনতম
    ৮৪ লক্ষ ভোট বিজেপির অনুকূলে আসাটা নিশ্চিত। এই অবস্থায় কংগ্রেস বা অন্যান্য বিরোধী দলের সম্ভাবনা থাকলো কোথায়। রাজদীপের এসব কথার সূত্র ধরে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, যেসব দল বিজেপির প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে বর্তমানে ওদের সাংগঠনিক শক্তি বলতে প্রায় কিছুই নেই। আসলে আমজনতা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ওইসব দল থেকে। তাই সাংগঠনিক স্থিতি গিয়ে পৌঁছেছে এমন অবস্থায়। বিশ্বরূপ দাবি করেন, কাজের নমুনা দেখেই আমজনতার আস্থা বর্ষিত হচ্ছে বিজেপির উপর। সংখ্যালঘুরাও আজকাল বৃহৎ সংখ্যায় বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে রাজদীপ রায় পেয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার সংখ্যালঘু ভোট। আর করিমগঞ্জের সংসদ কৃপানাথ মালা পেয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার ।
    বিশ্বরূপের এমন বক্তব্যের পর রাজদীপ ফের জানান, পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলনের সফলতার পর এবার দল হিতাধিকারী সম্মেলনের আয়োজন করবে।
    কাগজ কল পুনরুজ্জীবিত করা এবং কর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে কাগজ কলের কর্মীদের আন্দোলন কার্যসূচি নিয়ে রাজদীপের বক্তব্য, দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে পারেন যে কেউ। তবে কাগজকল কর্মীদের উচিত আলোচনার জন্য এগিয়ে আসা, যাতে করে সম্ভব হয় সমাধানের রাস্তা বের করা। তিনি বলেন, সরকার কাগজ কল পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সক্রিয় রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ২৬০০ কোটির দেনা মিটিয়ে কাগজ কল চালু করার আগে ভাবতে হচ্ছে অনেক কিছুই।
    কাগজকলকে ঘিরে আন্দোলন নিয়ে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, যারা আন্দোলন করছেন বাস্তবে তাদের আন্দোলন করার নৈতিক অধিকার নেই। যখন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে কাগজকল কল ধ্বংস হচ্ছিল, তখন কোথায় ছিলেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্বরূপ আরও বলেন, তিনি ছিলেন কাগজ কলের ডিলার। তাই অনেক কিছুই জানা রয়েছে তার। যে কাগজ ১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, সেই কাগজ চক্রান্ত করে বিক্রি হয়েছে ৯ টাকায়। ৫ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন আধিকারিক সহ অন্যান্যরা। দুর্নীতি হয়েছে আরও অন্যান্য উপায়ে। দুর্নীতি আটকাতে পারলে আজ চালু থাকত কাগজ কল। দুর্নীতির প্রসঙ্গে রাজদীপ ও বিশ্বরূপ দুজনেই একযোগে জানান, এ নিয়ে তদন্ত হবে অবশ্যই। যারাই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ছাড়া পাবেন না তাদের কেউ।

    আরো দেখুন : মৃত্যুদিনে ফের আক্রান্ত ‘জাতির জনক’, উপড়ে ফেলা হল মূর্তি

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং