24.8 C
Guwahati
Thursday, October 14, 2021
More

    অসমে মাটির সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ সর্বা সরকার, ত্রিপাক্ষিক আলোচনা চান বিধায়ক কমলাক্ষ

    মনোজ মোহান্তিকরিমগঞ্জ : জাতি-মাটির সুরক্ষার ডাক দিয়ে ক্ষমতায় আসা সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকার অসমের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যর্থ। তাই করিমগঞ্জের অসম মিজোরাম সীমান্তের চেরাগি ফরেস্ট রেঞ্জের সিংলা সংরিক্ষত বনাঞ্চলে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পরদিনই মিজো আগ্রাসন আরও তীব্র হয়ে গেছে। উচ্ছেদ হওয়া জমিতে মিজোরামের আই আর ব্যাটেলিয়নের ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। মিজোরাম পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ে মিজো লোকেরা যুদ্ধস্তরীয় তৎপরতায় ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছে। অসমের জমিতে মিজো সংগঠনের পতাকা উড়ছে। কিন্তু সোনোয়াল সরকার হাতের উপর হাত রেখে বসে আছে। প্রয়োজন ছিল উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি সেখানে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে অসমের জমির সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু অসম সরকার সেই পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে মিজোরামের তরফে এখন আগ্রাসন আরও তীব্র হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতাবাড়ি কেন্দ্রের মিজো আগ্রাসিত অঞ্চল পরিদর্শন করে এ মন্তব্য করেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দেপুরকায়স্থ।

    তিনি বলেন, গত নির্বাচনের আগে সর্বানন্দ সোনোয়াল ভারত-বাংলা সীমান্তের লাঠিটিলা, ডুমাবাড়ি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন এক সূচ্যগ্র ভূমিও বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়া হবে না । কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা সেসব কথা ভুলে লাঠিটিলা ও ডুমাবাড়ি এলাকার ভারতীয় ভূমি বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছেন। আজ অসমের আন্তঃরাজ্য সীমা হোক কিংবা আন্তর্জাতিক সীমা কোনওটাই সুরক্ষিত নয়। অসমের চতুর্দিকে থাকা প্রতিবেশী রাজ্যগুলি দিন দিন অসমের ভূমি দখল করছে। বিশেষ করে করিমগঞ্জ জেলার রাতাবাড়ি ও পাথারকান্দির সীমান্তে মিজো আগ্রাসন চরমে পৌঁছেছে। উভয় কেন্দ্রেই বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন। কিন্তু এত সব হওয়ার পরও তাঁরা একবার সীমান্তে এলাকা পরিদর্শন করারও সময় পাচ্ছেন না। তাহলে অসমের ভূমি সুরক্ষিত থাকবে কি করে ? এ প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের বিধায়ক কমলাক্ষ। তিনি বলেন, আমি দেখে এলাম ভারত সরকারের জরিপ করা মানচিত্র উলঙ্ঘন করে রাতাবাড়ির সিংলা সংরিক্ষত বনাঞ্চলে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভিতরে এসে মিজোরা ক্যাম্প ও ঘরবাড়ি তৈরি করছে। ঐ স্থানের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রায় ছয় কিলোমিটার ভিতরে এসে তারা সংরিক্ষত বনাঞ্চল দখল করে রেখেছে। সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের গরু ছাগল ঐ এলাকায় চলে গেলে মিজোরাম প্রশাসন তা বেঁধে রাখে । পরে তাদের টাকা দিয়ে ছুটিয়ে আনতে হয়। একই অবস্থা পাথারকান্দির মেদলিছড়া সীমান্তে।  সেখানে মিজোরা তিন চার কিঃমি ভিতরে এসে অসমের বনবিভাগের একটি অফিসে কব্জা করে বসেছে। অসমের জমিতে থাকা সেতুর উপর মিজো পুলিশ ব্যারিকেড লাগিয়ে দিয়েছে। আর দুই কেন্দ্রের শাসক দলের দুই বিধায়ক ও সর্বানন্দ সরকার মুক দর্শক হয়ে বসে আছেন।

    কমলাক্ষ বলেন, আজ আমি রাতাবাড়ির মিজোরাম সীমান্তের চেরাগি ফরেস্ট রেঞ্জের সিংলা সংরিক্ষত বনাঞ্চলে গিয়ে যা দেখেছি তাতে বোঝা যাচ্ছে যে মিজোরামের মানুষের মধ্যে জাতীয় সংহতি চরম অভাব রয়েছে। তাই তো তারা কোনও বিদেশী রাষ্ট্রের মতো অসমের জমি জবর দখল করে তাদের কোনও এক সংগঠনের পতাকা উড়িয়ে রেখেছেন। বিজেপি সরকারের চরম বিফলতার কারণে মিজো আগ্রাসন তীব্রতর হয়েছে। সুরক্ষাহীনতায় ভুগছেন সীমান্তের মানুষ। মিজোরা যে মানসিকতা নিয়ে আগ্রাসন চালাচ্ছে এতে অসমের এলাকায় থাকা গ্রামীণদের সঙ্গে তাদের সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।  যার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী বর্তমান বিজেপি সরকার বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন। কমলাক্ষ আরও বলেন, আমরা শান্তিকামী মানুষ। ত্রিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে কেন্দ্রের জরিপ করা মানচিত্রের ভিত্তিতে সীমা বিবাদের নিষ্পত্তি হওয়া আবশ্যক। এ নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরে চিঠি লিখবেন বলেও সংবাদ মাধ্যমকে জানান। সেই সঙ্গে অসম সরকারকে তাদের প্রাক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে অসমের জাতি মাটি রক্ষায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    এদিন বিধায়ক কমলাক্ষ দলীয় কর্মীদের নিয়ে কয়েক কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে রাতাবাড়ির মিজো আগ্রাসিত এলাকায় পৌছার পর অপরদিক থেকে মিজোরামের মামিত জেলার এসপি শশাঙ্ক জয়সওয়াল মিজো পুলিশ বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসেন। উচ্ছেদ করা জমিতে যেখানে মিজো পুলিশের ক্যাম্প বা মিজোরা ঘরবাড়ি তৈরি করছে সেখানে প্রচুর সংখ্যক মিজো নাগরিক ও মিজোরামের আই আর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা উপস্থিত ছিলেন। ফলে মামিতের পুলিশ সুপার কমলাক্ষ দেপুরকায়স্থ সহ প্রতিনিধি দলকে সেখান থেকে একশো মিটার দূরে আটকে দেন। মামিতের পুলিশ সুপার সৌজন্যমূলক আলোচনায় কমলাক্ষকে জানান, ঐ জমিতে মিজোরা বংশানুক্রমে বসবাস করছে তাই অসমের দাবি অযৌক্তিক। কিন্তু চেরাগি রেঞ্জ অফিসার যতীন্দ্রমোহন দাস ও রাতাবাড়ির ওসি জয়ন্ত তেরাঙ তথা চেরাগি জিপি সভাপতি বাবুরিল চরাইর উপস্থিতিতে কমলাক্ষ তাঁকে বলেন, ভারত সরকারের জরিপ করা মানচিত্র মেনে নিলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। উভয়ের কথোপকথনে এলাকায় শান্তি বজায় রেখে দুই রাজ্যের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সীমা বিবাদের স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজাই শ্রেয় বলে মত ব্যক্ত করা হয়। এদিনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন অসম রাজ্য যুব কংগ্রেস সম্পাদক শচীন সাহু, জেলা কংগ্রেস সম্পাদক বুদ্ধ দাস, রাতাবাড়ি কেন্দ্রের যুব কংগ্রেস সভাপতি মামুন রশিদ খান, অসম প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদক প্রতাপ সিনহা, চন্দন হাজার,সুবাস ধর প্রমুখ।

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং