19 C
Guwahati
Tuesday, November 22, 2022
More

    অন্তর্ঘাত নয়, কারিগরি সমস্যায় নষ্ট হয় হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন!

    শিলচর, ২১ জানুয়ারি : শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোল্ড চেন পয়েন্টের আইসোলেশন রেফ্রিজারেটরে কোভিড ভ্যাকসিনের একহাজার ডোজ জমে যাওয়ার জেরে বর্তমানে জোরদার করা হচ্ছে নিরীক্ষণ ব্যবস্থা। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে শো-কজ-এর মুখে পড়া অ্যাডিশনাল চিফ মেডিক্যাল এন্ড হেলথ অফিসার (এফ ডব্লিউ) ডা: পিকে রায় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, নিয়ম মেনেই ভ্যাকসিন-এর ১০০ ভাওয়েল (১০০০ ডোজ) পাঠানো হয়েছিল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।যদিও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক সুমিত সাত্তাওয়ান কথা বলেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে।

    জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক ডা: সুদীপজ্যেতি দাস জানিয়েছেন, কথা ছিল প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী সিভিল হাসপাতাল চত্বরের ওয়্যারহাউসের “কোল্ডচেন পয়েন্ট”-এর মজুত ভান্ডার থেকে ভ্যাকসিন পাঠানো হবে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেই হিসেবে শনিবার প্রথম দিন পাঠানোর কথা ছিল ১০টি ভাওয়েল (১০০ ডোজ)। কিন্তু দেখা গেছে এর আগের দিন শুক্রবারই ১০টির স্থলে পাঠানো হয় ১০০টি ভাওয়েল (১০০০ডোজ)। এই অনিয়মের জন্যই “শো-কজ” করা হয়েছে ডা: পিকে রায় এবং ডিস্ট্রিক্ট ভ্যাকসিন লজিস্টিক্যাল ম্যানেজার প্রভাত সিনহাকে। একই কথা বলেন স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক সুমিত সাত্তাওয়ানও। যদিও ডা: পি কে রায়ের দাবি তিনি কোনও অনিয়ম করেননি। তাঁর কথায়, “কোভিড-১৯ গাইডলাইন” পুস্তকের ৯৪ তম পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, যে ভ্যাক্সিনেশন সেন্টারে কোল্ডচেন পয়েন্ট রয়েছে, সেই সেন্টারে এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাঠানো যেতে পারে অবশ্যই। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সেন্টারে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য নথিভুক্ত হয়েছে ১৪১১ জনের নাম। স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগত কারণে কিছু ভ্যাকসিন নষ্ট হবে বলে ধরে নিয়ে এই ১৪১১ জনের জন্য অন্তর্ঘাত নয় প্রযোজ্য ভ্যাকসিনের ১৫৫০ ডোজ। সেই হিসেবে এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাঠানোর নিয়মের আঁধারে ১০০ ভাওয়েল (১০০০ ডোজ) পাঠিয়ে তিনি কোনও অনিয়ম করেননি।

    তাঁর অধীনস্ত কর্মীরা মেডিক্যালে গিয়ে এসব সমঝে দেন সেখানকার “কোল্ড চেন হ্যান্ডলার” বিরলা বর্মনকে(জিএনএম নার্স)। সে সময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেলের ভ্যাকসিন নোডাল অফিসার ডা: অজিত দে-ও। মেডিকেলের সংশ্লিষ্ট কর্মী আধিকারিকরা এসব সমঝে নেওয়ার পর কি হয়েছে, এ নিয়ে তাঁকে দায়ী করা যায় না। এদিন এসব কথা উল্লেখ করে শোকজের জবাব জমা দিয়েছেন বলেও জানান ডা: রায়। কিন্তু ডা: পি কে রায় এভাবে বললেও অতিরিক্ত জেলাশাসক সুমিত সাত্তাওয়ান কিন্তু বলেছেন পুরো উল্টো সুরে। তাঁর কথায় ভ্যাকসিন নিয়ে “জুম মিটিং”-এ স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সিভিল হাসপাতাল চত্বরের ওয়্যারহাউস থেকে ভ্যাকসিনেশনের দিনগুলোতেই যেন পাঠানো হয় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন। কিন্তু এই নির্দেশ মোটেই মানা হয়নি।

    সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাত্তাওয়ান আরো জানান, ভ্যাকসিন জমাটবাঁধা কাণ্ডের পর এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপাতত চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক ভিত্তিতে মেডিকেলে পাঠানো হচ্ছে ভ্যাকসিন। এরপর যেসব থেকে যাচ্ছে ফের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সেসব। তবে এই ব্যবস্থা বেশি দিন অব্যাহত থাকবে না। সিভিল হাসপাতাল চত্বরের কোল্ডচেন  পয়েন্টে থাকা একটি আইসলাইন রেফ্রিজারেটর পাঠানো হবে মেডিকেলে। আর মেডিকেলে তো বটেই, সঙ্গে সিভিল হাসপাতালে কোল্ডচেন পয়েন্টেও জোরদার নিরীক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবার থেকে কোল্ডচেন পয়েন্ট এর আইসলাইন রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা নিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতি দু’ঘন্টা অন্তর অন্তর এবং রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল  ৮টা পর্যন্ত চারঘন্টা অন্তর অন্তর তাপমাত্রা নিরীক্ষণ করে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করতে হবে ওই কর্মীদের। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে, দায়ী থাকবেন  ওই কর্মীরা।
    ভ্যাকসিন জমে যাওয়া কাণ্ড নিয়ে তিনি জানান, শুক্রবার রাত ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মেডিকেলে সমঝানো হয়েছিল ভ্যাকসিন। আইসলাইন রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা নিরীক্ষণ এর দায়িত্বে থাকা কর্মী সূচি অনুযায়ী এর আগে বিকেল চারটেয় তাপমাত্রা পরীক্ষা করে যান। ওই কর্মীর বয়ান অনুযায়ী, সেসময় তাপমাত্রা ছিল নির্ধারিত ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই। তবে তার বয়ান কতখানি সত্য তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে “অনলাইন লগ ইন সিস্টেমে”। ওই কর্মী অসত্য বলে থাকলে অবশ্যই ধরা পড়ে যাবে তা। আর সত্য বলে থাকলে বুঝে নিতে হবে আইসলাইন রেফ্রিজারেটরে রয়েছে কারিগরি সমস্যা। তবে তিনি সঙ্গে এও বলেন, সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে ঘটনার পেছনে কোনো অন্তর্ঘাত কাজ করেনি।

    আরো দেখুন : শিলচরে ভাড়া ঘরে থেকে অভিযান চালাত ছিনতাইবাজরা, ধৃতের স্বীকারোক্তি

    Published:

    Follow TIME8.IN on TWITTER, INSTAGRAM, FACEBOOK and on YOUTUBE to stay in the know with what’s happening in the world around you – in real time

    First published

    ট্ৰেণ্ডিং